প্রশিক্ষণের আগে পদায়নের দাবি প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের © সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী প্রশিক্ষণের আগে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ দাবি জানান তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচের ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান পরবর্তী বেতন-ভাতা উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে যৌক্তিক ও মানবিক দিক বিবেচনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর পূর্বে পদায়নের ব্যবস্থা করা হোক। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই বিদ্যালয়ে পদায়ন সম্পন্ন করে নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম সংযুক্ত করা হোক। এতে সরকারের নীতিগত লক্ষ্যও বাস্তবায়িত হবে এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তাও দূর হবে।
এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, পদায়ন সম্পন্ন না হলে বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশিক্ষণ আগে অনুষ্ঠিত হলে পদায়ন ও বেতন কার্যক্রম সম্পন্ন হতে আরও কয়েক মাস অতিবাহিত হতে পারে, যা নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হবে।
তারা বলেন, আমরা কোনোভাবেই প্রশিক্ষণের বিরোধী নই। বরং একজন দক্ষ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষক গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকারের গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন করি। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অসংখ্য বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। তাই আমাদের দ্রুত পদায়ন করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষক সংকট অনেকাংশে কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান পাবে।
যোগদান ও পদায়নে বিলম্ব হওয়ায় তারা কষ্টে আছেন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় আছি। অনেকেই আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় সংসারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ চরম আর্থিক সংকটে, কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এমনও সহকর্মী আছেন, যিনি বাবাকে হারিয়েছেন; অনেক পরিবার আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। নিয়ম অনুযায়ী এরপরই যোগদানের কথা থাকলেও প্রায় দুই মাস ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত এপ্রিলের শেষদিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণসহ কিছু শর্তে যোগদান করানো হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।