শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগ বঞ্চিতদের অবস্থান © টিডিসি ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সাত ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। দ্বিতীয় ধাপে কয়েকটি জেলার প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রকাশ হলেও এখনো বেশ কয়েকটি জেলার প্রার্থীরা তা পান নি। বাকি জেলার নিয়োগপত্র প্রকাশ না হলে আগামীকাল সোমবারও অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীরা জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মাগুরার ৩৩ জনসহ কয়েকটি জেলার বঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার ঘোষণা এসেছে।
নিয়োগবঞ্চিত এক প্রার্থী বলেন, ‘মাগুরার ৩৩ জনসহ কয়েকটি জেলার নিয়োগপত্র দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, যেসব জেলার প্রার্থীরা এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদেরও দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া হোক। সরকার নতুন করে অনেক জেলায় বঞ্চিতদের নিয়োগপত্র দিচ্ছে।
পরবর্তী কর্মসূচি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করব। আশা করছি সরকার সবাইকে নিয়োগপত্র দেবে। আমরা চাই না আমাদের মধ্যে থেকে কোনো ভাই-বোন বঞ্চিত হোক। যদি আজকের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়া না হয়, তাহলে আগামীকাল থেকে আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমি কখনো কোন দলের সাথে জড়িত ছিলাম না, আমার নামে কোন মামলা নাই। আমি নিয়োগপত্র কেন পাইনি সেটা ভাবলেই আমার দুচোখে পানি চলে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলার দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হলেও পঞ্চগড় জেলার এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, সবাই নিয়োগপত্র পাব। ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকেই রাখার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আমরা সেটিই চাই। কাউকে বাদ না দিয়ে সবাইকে আগামী ১ অক্টোবর চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হোক।
আব্দুল কাইয়ুম আরও বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিয়োগপত্র না পাচ্ছি, ততক্ষণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। একজনও যদি বাদ পড়েন, তাহলে চূড়ান্ত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার এক নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী বলেন, ‘আমার উপজেলার মেধাক্রম ছিল দ্বিতীয়। সারাদিনের কর্মসূচির পর বিকেল থেকে বিভিন্ন জেলার দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো জামালপুর জেলার ফল প্রকাশ হয়নি। প্রত্যেক জেলার ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।
তিনি জানান, আজ সব জেলার ফল প্রকাশ সম্ভব না হলে আগামীকালও তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। সব জেলার নিয়োগপত্র প্রকাশ হলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে।
ওই প্রার্থী জানান, তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স করেছেন এবং বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তাদের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তবে অনেকে নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিও) কার্যালয়ে যোগাযোগ করছেন। সেখান থেকে কয়েকটি জেলায় নিয়োগপত্র প্রকাশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রার্থীরা বলেন, তাদের কোনো নতুন দফা বা দাবির তালিকা নেই। মূল দাবি হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রার্থীকে বাদ না দিয়ে বাকি থাকা সব জেলার নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া। আজ রাত পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। এর মধ্যে নিয়োগপত্র না পেলে আগামীকাল থেকে নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।