যোগদানের অপেক্ষায় থাকা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দোটানায় সরকার

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ PM , আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ PM
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ © টিডিসি সম্পাদিত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা কাটছেই না। ‘তাড়াহুড়ো’ করে পরীক্ষা আয়োজন, বিভিন্ন জেলায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো অভিযোগ, অসংখ্য প্রার্থী ডিভাইসসহ আটকের পরই নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চূড়ান্ত করা হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে এখন তাদের পদায়ন নিয়ে দোটানায় পড়েছে সরকার।

এসব বিতর্কের কারণে পুরো নিয়োগ পরীক্ষা রিভিউ হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যদিও এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কী হবে, সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কারণে বেশ কিছু বিতর্ক দেখা দেয়। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসসহ বেশ কিছু বিতর্ক দেখা দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়ায়। সে সময় অনেকে এটি বাতিলেরও দাবি তোলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার আসার পর এসব প্রার্থীর পদায়ন আটকে যায়। এখন নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কোন প্রক্রিয়ায় যাবে, তা নিয়ে দোটানায় আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘মামলায় ছয় হাজারের বেশি শিক্ষকের চাকরি আটকে আছে। আরেক মামলায় ৩২ হাজারের বেশি হেডমাস্টারের চাকরি আটকে আছে। নতুন ১৪ হাজার শিক্ষকের পরীক্ষা অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে। এমন প্রসেসে নিয়েছে, যেটা এখন আমরা ফুল ভেরিফাই করে তাদেরকে চাকরিতে বসাতে পারছি না।’

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শিক্ষা বাজেট: বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গণসাক্ষরতা অভিযান এ আয়োজন করে। 

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের আড়াই মাস পার হলেও এখনো প্রার্থীরা যোগদান করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন যোগদানের অপেক্ষায় থাকা চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা। সরকারও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন চলতি সপ্তাহে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওভারনাইট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এজন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করা হতে পারে। আমরা একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে ভাবছি। এ কমিটি পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে।’

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার শিক্ষকের পরীক্ষা ভেরিফাই করে চাকরিতে বসাতে পারছি না: প্রতিমন্ত্রী

গত ৫ নভেম্বর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপ এবং ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রথম ধাপে ৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১৪ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া চলে। এরপর ২ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি করা হয়।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

চাষের মাছে গন্ধ হয় কেন, কী করলে গন্ধ থাকবে না?
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসিতে ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯৫.২৪ …
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এবার মুখ খুললেন আকবর আলী
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসিতে উত্তীর্ণদের অভিনন্দন, অনুত্তীর্ণদের প্রতি সহমর্মিত…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের হাইকমিশনার…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
গোপালগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর
  • ১০ আগস্ট ২০২৬