প্রাথমিকে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ১৪ হাজার প্রার্থীর দুশ্চিন্তা কেন বাড়ছে?

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ PM , আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ PM
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের লোগো

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের লোগো © সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করতে পারেননি ১৪ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদান করানো হয়নি। চাকরিপ্রার্থীরা বলছে, একটা সেটেলড বিষয়কে নতুন করে ইস্যু বানাতে চাইছে মন্ত্রণালয়; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এদিকে নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে গতকাল সোমবার বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পুরো নিয়োগ পরীক্ষা রিভিউ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওভারনাইট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এজন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করা হতে পারে। আমরা একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে ভাবছি। এ কমিটি পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে।’

শিক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর নতুন করে ‘রিভিউ’ করার সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক এবং সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, কোনো সিদ্ধান্ত যদি রিভিউ করা প্রয়োজন হয় তবে তা আগেই করা উচিত ছিল। চূড়ান্ত সুপারিশের পর এখন এগুলো করে যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় এখন আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম সংকটে রয়েছেন, তাই দ্রুত যোগদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মো. ফারহান হোসেন নামে এক চাকরী প্রত্যাশী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘রিভিউ বলতে মন্ত্রী মহোদয় কী বুঝাতে চাচ্ছেন এ বিষয়ে আমরা অবগত নয়। যেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব থেকে নীতি-নির্ধারকগণ সচেতন ছিলেন এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও কয়েক ধাপে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এই ১৫ হাজার মেধাবীদের চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। এমতাবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ সকল ধরণের কার্যক্রম শেষ হওয়ায় আমরা যোগদানের অপেক্ষায় আছি। একদিন দুইদিন করে তিন মাস হতে চলল, এমতাবস্থায় রিভিউ বলতে তিনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন এটা আমরা বুঝতে পারছি না। কোনো কালক্ষেপণ ছাড়াই আমরা এখন যোগদান চাই।’

সিরাজগঞ্জ থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত আরেক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, আমরা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়েছি, যা ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সে কারণে নতুন করে পুনঃমূল্যায়ন কীভাবে করা হবে, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে যাচাই করে দেখতে পারে, এমসিকিউ পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েও কেউ উত্তীর্ণ হয়েছে কি-না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পুনঃমূল্যায়নের নামে যেন মেধাবীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রহসন না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তাছাড়া, এই পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে, সে বিষয়েও আমাদের সংশয় রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, এখন যদি রিভিউ হবে তাহলে যোগদানের সকল নিয়মকানুন শেষ করে কেন? সরকার পরিবর্তনের পর মেডিকেল চেকআপ, কাগজপত্র জমা নেওয়া এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। তখন ওনারা চুপ ছিলেন কেন? সরকারের রিভিউ করার ইচ্ছা থাকলে আগে করত। তাছাড়া আসল কথা হলো রিভিউ কতবার করবে? রিভিউ করার পরেই তো সকল গোয়েন্দা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। চাকুরী প্রক্রিয়ার সকল কার্যক্রম শেষ কারার কারণেই অনেকে আগের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আবার অনেকে প্রাথমিকে জয়েন করবে বলে অন্য চাকরিতে যোগদান করেননি। এখন আমরা রিভিউ এর নামে কোন প্রকার প্রহসন চাই না।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও হত্যা বহু বছরের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতি…
  • ২১ মে ২০২৬
স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলি হতে পারবেন শিক্ষকরা, এক প্রতি…
  • ২১ মে ২০২৬
শিক্ষকদের গাফিলতিতে পদে পদে ভোগান্তি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের,…
  • ২১ মে ২০২৬
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ ২০ খেলোয়াড়
  • ২১ মে ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক, আবেদন স্নাতক পাসেই
  • ২১ মে ২০২৬
কারিগরি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশ, দেখুন এখানে
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081