বৈদ্যুতিক চুলা © সংগৃহীত
গ্যাসের সংকটে রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। তাই বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন নগরবাসী। তবে শুধু দাম দেখে নয়, চুলার ধরন, বিদ্যুৎ খরচ, নিরাপত্তা ও ব্যবহারের সুবিধা বিবেচনা করেই কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। মিরপুর-১০ নম্বরের শাহ্ আলী প্লাজার বিক্রেতারা জানান, আগে যেখানে দিনে হাতে গোনা কয়েকটি চুলা বিক্রি হতো, এখন সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।
ইনডাকশন নাকি ইনফ্রারেড— কোনটি ভালো?
বাজারে মূলত দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চুলা পাওয়া যায়— ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড।
ইনডাকশন চুলা— বিশেষ ধরনের চুম্বক-আকর্ষণকারী পাত্র প্রয়োজন। রান্না দ্রুত হয়। বিদ্যুৎ তুলনামূলক কম খরচ হয়। শুধু পাত্র গরম হয়, চুলার ওপরের অংশ তুলনামূলক কম গরম থাকে।
ইনফ্রারেড চুলা— প্রায় সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়। আলাদা পাত্র কেনার প্রয়োজন নেই। চুলার কাচও গরম হয়ে যায় এবং ঠান্ডা হতে কিছুটা সময় লাগে। ইনডাকশনের তুলনায় রান্না কিছুটা ধীর এবং বিদ্যুৎ খরচ বেশি হতে পারে।
দাম কত?
বাজারে এক বার্নারের (সিঙ্গেল) বৈদ্যুতিক চুলার দাম সাধারণত ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। দুই বার্নারের (ডাবল) মডেলের দাম ৭ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। অনেক মডেলে একটি ইনডাকশন ও একটি ইনফ্রারেড বার্নার থাকে। তবে ডাবল বার্নার কেনার আগে বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগের সক্ষমতা যাচাই করা উচিত।
ব্যবহারে যা খেয়াল রাখবেন— যত্ন নিয়ে ব্যবহার করলে একটি বৈদ্যুতিক চুলা ৮ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। ইনফ্রারেড চুলার কাচে আঘাত বা অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। রান্নার পর চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হলে পরিষ্কার করুন।
শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। দীর্ঘ সময় একটানা ব্যবহার না করে মাঝেমধ্যে বিরতি দিন। নিয়মিত কুলিং ফ্যান পরিষ্কার করলে চুলার কার্যক্ষমতা ভালো থাকে।
ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা কী বলছে?
অনেক ব্যবহারকারী বলছেন, গ্যাসের সংকটে বৈদ্যুতিক চুলা তাদের জন্য কার্যকর বিকল্প হয়েছে। বিশেষ করে ইনডাকশন চুলায় রান্না দ্রুত হয় এবং ব্যবহারেও সুবিধা পাওয়া যায়। তবে যেসব এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হয় বা বড় পরিবারের জন্য দীর্ঘ সময় রান্না করতে হয়, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
গ্যাসের অনিশ্চয়তার সময়ে বৈদ্যুতিক চুলা হতে পারে কার্যকর সমাধান। তবে কেনার আগে নিজের রান্নার প্রয়োজন, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বাজেট বিবেচনা করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব।