প্রাথমিক শিক্ষকেরা © সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ২০২৫ সালের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দ্রুত যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে রাজধানীতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। রবিবার (২ আগস্ট) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কর্মসূচি পালনের আগে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এ চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সকাল ১১টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা রাজধানীতে এসেছেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি।’
এদিকে, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে গতকাল (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ‘সভাশেষে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রাথমিকের জন্য সুপারিশ করা ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। আশা করি, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক আগামী ২৯ অক্টোবর যোগদান করলে তাদের বিদ্যালয়ে পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
সরকার যোগদান প্রক্রিয়া শুরুর সময়সূচি ঘোষণা করলেও আন্দোলনরত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন এবং বিধিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।