প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন © সংগৃহীত
সদ্য নিয়োগপত্র পাওয়া প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে লটারির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সূত্র বলছে, পদায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে একাধিক বিদ্যালয়ের পছন্দক্রম নেওয়া হতে পারে। এরপর বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ এবং শিক্ষকদের পছন্দক্রম বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা যায়, ইতোমধ্যেই নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলায় নিয়োগপত্র পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন লটারির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এ যোগদান করা শিক্ষকদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের জন্য লটারি অনুষ্ঠিত হবে। নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলার যোগদান করা সহকারী শিক্ষকরা এতে অংশ নেবেন।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকের নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়ন নিয়ে সুখবর দিল অধিদপ্তর
সূচি অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ উপজেলার লটারি হবে সকাল ১০টায়। ডিমলা উপজেলার সকাল ১১টায়, ডোমারের সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, সদর উপজেলার দুপুর ১২টায়, সৈয়দপুরের দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এবং জলঢাকা উপজেলার লটারি হবে দুপুর ১টায়।
বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লটারিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। লটারিতে পদায়ন নির্ধারণের পর সেখান থেকেই পদায়ন আদেশ গ্রহণ করতে হবে। তবে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে দেশের সব জেলায় একইভাবে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
লটারির মাধ্যমে পদায়ন হলেও নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে পদ খালি থাকা সাপেক্ষে প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থীর নিজ উপজেলায় কাছাকাছি বিদ্যালয়ে পদ শূন্য থাকলে লটারির মাধ্যমে ওই এলাকার বিদ্যালয়ে পদায়নের সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পদ্ধতি চালু হলে পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রভাব বা অনানুষ্ঠানিক তদবিরের সুযোগ কমার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রকাশিত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়তে পারে।