ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন চাকরীপ্রত্যাশীরা © টিডিসি ফটো
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যোগদান করতে পারেননি ১৪ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদান করানো হয়নি। তাই অবিলম্বে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগের দাবি জানিয়েছে চাকরিপ্রার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
এসময় তাদের ‘মেধার জয় হোক, নিয়োগ দ্রুত হোক’, ‘যোগ্যতার সম্মান চাই, নিয়োগপত্র এখনই চাই’, ‘দ্রুত যোগদানের আদেশ করুন, করতে হবে’, ‘মেধার জয় হোক, নিয়োগ দ্রুত হোক’, ‘প্রতিশ্রুতি নয় বাস্তবায়ন চাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’ লেখাসম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাড়িয়ে থাকতে ও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ হুমায়ুন আহমেদ বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগের দাবিতে আজ আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। গত ৯ জানুয়ারি আমাদের এই পরীক্ষাটা হয়েছিল। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে কিছু অসাধু যে কারচুপির অভিযোগ এনেছিল এটার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ এখানে তদন্ত চালায় এবং তাদের তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে যখন দেখা যায় যে এই পরীক্ষাটা স্বচ্ছভাবে হয়েছে তখনই পরবর্তীতে এটার লিখিত ফলাফল দেওয়া হয় এবং ভাইবার জন্য চূড়ান্তভাবে নিয়োগ করা হয়।
পরবর্তীতে ভাইভাটা খুবই স্বচ্ছভাবে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। সেখানে যারা চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয় তাদেরকে কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়। আমরা বিগত বছরে দেখেছি যে চূড়ান্তভাবে কাগজপত্র দেয়ার পরে এক সপ্তাহ বা ১৫ দিনের পরেই তাদের হাতে নিয়োগপত্র চলে আসে। কিন্তু এইবার সেটা হয় নাই। যার কারণে যারা চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছে তারা খুবই মানে মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ট্রমার মধ্যে রয়েছে। যার কারণে তারা মানে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেকের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে।
যেহেতু চূড়ান্তভাবে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয় তখন এই কারণে সবাই পূর্ববর্তী চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছে। একজন ব্যক্তি একই সাথে দুইটা চাকরি কন্টিনিউ করতে পারে না। যারা এই চাকরিতে যোগদানের জন্য পূর্ববর্তী চাকরি ছেড়েছে এখন তারা হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
যেহেতু বর্তমান সরকার প্রাইমারি শিক্ষার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আশ্বাস আমাদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং দ্রুত এই এই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত প্রার্থীদেরকে নিয়োগ দানের মাধ্যমেই সেই শিক্ষক সংকট নিরশন করবেন। যারা হতাশার মধ্যে রয়েছে তাদেরকে এই হতাশা থেকে মুক্তি দিবেন। আমরা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানাই, যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের সম্পূর্ণ কার্য সমাপ্ত করেছে এবং তারা বলেছে যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে তারা পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। সুতরাং আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট এই আর্জি জানাই যাতে এই শিক্ষক সংকট নিরশনে এই চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে এই হতাশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
রিফাত জাহান অমি নামে এক চাকরীপ্রত্যাশী বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার আড়াই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও আমাদের এখনো চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেয়া হয়নি বা আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এর প্রেক্ষিতে আমরা আজকে মূলত আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, আমরা অত্যন্ত মানসিক ট্রমার মধ্যে আছি যে চূড়ান্ত নিয়োগের আড়াই মাস পরেও কেন আমাদের এখনো নিয়োগপত্র বা চূড়ান্ত যোগদানপত্র দেওয়া হয়নি। যেখানে গোয়েন্দা অধিদপ্তর প্রকাশ করেছে যে এই নিয়োগটি অত্যন্ত স্বচ্ছ নিয়োগ এবং এবারই সম্পূর্ণ কোটাবিহীন নিয়োগ হয়েছে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে আমাদেরকে চূড়ান্তভাবে জয়েনিং দিয়ে আমাদের মানসিক যন্ত্রণার অবসান করা হোক।