নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার তরুণ আবু ওবাইদাহ অরিন © সংগৃহীত
নয়াদিল্লি থেকে প্রচারিত পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে সাতক্ষীরার তরুণ আবু ওবাইদাহ অরিনের উপস্থিতি সামনে আসার পর স্থানীয় রাজনীতিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে ওই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অরিনের পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
প্রায় ছয় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেস কনফারেন্স শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পর অরিন ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী’ ও আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে পদ্মা সেতুসহ শেখ হাসিনা সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তরুণদের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।
এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। বক্তব্য চলাকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর সমালোচনাও করেন অরিন। বক্তব্যের শেষে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় দেশরত্ন শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী অরিন সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ‘জাহান প্রেস’-এর মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেলের সঙ্গে অরিন ও তার বাবার ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
আরও খবর: ৫০৩ কোটির বাজেট অনুমোদন: পরিকল্পনার শেষ নেই, বাস্তবায়ন কতটুকু?
এছাড়া রাজনৈতিকভাবে সাতক্ষীরার সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর পরিবারের সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় মুদি দোকানী শাহজাহান আলী জানান, তিনি ভারতের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তাকে এলাকায় দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য জানতে অরিনের বাড়ি ও জাহান প্রেসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা আবু সোয়েব এবেলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে, শেখ হাসিনার বহুল আলোচিত এই সভায় এক তরুণের উপস্থাপনা ও বক্তব্যের বিষয়ে কিছুই জানে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে জেলা পুলিশ অবগত নয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কলটি কেটে দেন।