মারদিয়া মমতাজ
জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ © টিডিসি সম্পাদিত
জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে প্রশংসা কুড়ান তিনি। এবার জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের সংসারের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন তিনি। শনিবার (২৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ বিষয়ে লেখন তিনি।
মারদিয়া মমতাজ লিখেছেন, ‘বাজেট পাস হবে। এর আগে আবার ৩৪৮ জন এমপি কথা বলবেন। কতক্ষণ? ছয় থেকে ৩০ মিনিট দেখলাম এ পর্যন্ত। সাত-সকাল (আসলে ১১টা) থেকে শুরু, শনিবারও বাদ যাচ্ছে না। রোজ আসরের পর মনে একটু আশা হয়। বুঝি মাগরিবের আজানের আগে হেডস্যার, মানে মাননীয় স্পীকার বলবেন, সংসদের বৈঠক আগামীকাল অমুক সময় পর্যন্ত মুলতবি করা হল।’
তিনি বলছেন, ‘না, মাগরিবের বিরতির জন্য আধাঘণ্টা দিয়ে তিনি কক্ষত্যাগ করেন। ঝিমানি আসে, স্রোতের মত ক্লান্তি আসে। কী আর, লবীতে গিয়ে তিনখানা চা দিয়েও সে ঝড়ে শিক দেওয়া যায় না। সংসদে সবাই বলে স্যার, বাড়ি ফিরে দেখি এম্মা চায়ের মগ, আর ভাতের বাসন আমি ধুবো! পরে ওই যে হ্যান্ডওয়াশের বাচ্চাটার মতো নিজেকে মোটিভেশন দিই, ধুতেই থাকো ধুতেই থাকো....।’
‘স্যার বললেও বা কী, মা তো মা ই। অধিবেশনে খটোমটো বাজেট, রাজস্ব, ট্যাক্স জিডিপি, এনবিআর নিয়ে ঝড় বয়ে যায়। ওরই পাশে একজন মা ফোনে ফিসফিস করে বলেন, ত থেকে বয় শূণ্য র পর্যন্ত দুইটা করে শব্দ লিখবে। আর আমি সেই মুহূর্তে হয়ত ভাবছি, ছেলেটা মাছের টুকরাটা খাবে তো! এর মধ্যেও দাঁতে দাঁত চেপে, মুখ শক্ত করে, সয়ে যাই হাজারটা ভুলভাল তথ্যের ভিড়, তার সমর্থনে মুহূর্মুহু টেবিল তালি’, যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: তরুণকে আটকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ গ্রেফতার ৩
মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আসলে এসব সুখের অসুখ। আগে সকাল সাতে বাসে ঘুমাতে ঘুমাতে অফিস যেতাম, তার আগের দুই ঘণ্টায় রান্নাবাটি। ক্লাসে ছিলো না চেয়ার, দাঁড়িয়ে দেড় ঘণ্টা। টানা দুই ক্লাস হলে, বা পরীক্ষার ডিউটি পড়লে, ব্যাস। আর এখন বসে থেকে পায়ে হাঁপ ধরে যায়। দায়িত্বও এমন, রূপকথার মতো ভেবে ফেলা যায় না যে, এখানেই সুখে শান্তিতে ম্যালাদিন থাকা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘অগত্যা অবসরে সিভি আপডেট দিই, আর থমকে যাই। হতভাগী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের সিভিতে এই এমপির পদ কী যোগ করে, আর কী ওজন বাড়ায়, এর সমাধান করতে পারি না। মুজতবা আলী লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ নাকি জীবনের শেষ কথাটি বলেছিলেন, কী জানি কী হবে? এখানে বসে এইই মনে হয় রোজ। কী জানি, কী হবে?’