পতিসরে মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর © টিডিসি ছবি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব মানবতার কবি। তার কবিতা-সাহিত্যের মধ্য দিয়ে জীবনকে সাজাতে হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেছেন। নওগাঁর আত্রােই উপজেলার পতিসরে কবির কাচারি বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ এই অঞ্চলে তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলন। কৃষকদের দুংখ-দুর্দশা দেখে কৃষি ব্যাংক করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য করের লাঙ্গল নিয়ে এসে কৃষি কাজ শুরু করেছিলেন।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব মানবতার কবি। নাটক-গানসহ সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবাধ বিচরন ছিল। গীতাঞ্জলি কবিতার মধ্যে দিয়ে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তার কবিতা-সাহিত্যের মধ্য দিয়ে জীবন সাজাতে হবে।
এ সময় দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। বলেন, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ বার বার পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছে-লড়াই করেছে। কিন্তু কোন পরিবর্তন আসেনি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে আমাদের যে সক্রিয়তা ও পরিচয় আমরা বাংলাদেশি সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা নিয়ে আসতে হয়েছে। আবার গনতন্ত্র লড়াই করে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। আমরা হানাদার বাহিনী ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এছাড়া নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. মুশফিকুল ফজল আনসারী, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঢাকা ও জেলা শিল্পকলা, রাণীনগর ও আত্রাই শিল্পকলার একাডেমীর নিয়মিত শিল্পরা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থী, কবিগুরুর ভক্ত, গবেষক, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরচারণায় কবিগুরুর কাচারী বাড়ির প্রাঙ্গন মুখর হয়ে ওঠে।