মোহাম্মদ ইসহাক সরকার ও এনসিপি লোগো © সংগৃহীত
সাবেক যুবদল নেতা ও ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার-এর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগদান প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হলে পরবর্তীতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনীতি করতে হবে, তাই যে আমাকে রাস্তা ও পথ তৈরি করে দিবে আমি সেখানেই যেয়ে জনগণের পাশে থাকতে চাই। এই দল করেছি, সেই দলের কাছ থেকে ন্যূনতম সহানুভূতি পাচ্ছি না। আমাদেরকে যদি এভাবে বঞ্চিত রাখা হয়, তাহলে আমার জন্য এটা সম্ভব না’ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করে জনগণের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
দলের ভেতরে অবহেলা ও দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে ইসহাক বলেন, আমার অফিস দখল করে নিছে, সব কিছু দখল করে নিছে। আমি তো বিচার পাইনি, কোথাও বিচার নাই। এ অবস্থায় তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, আমার তো রাজনীতি করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে সেবা দেওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। এটার জন্য তো বছর পর বছর জেল খেটেছি, হামলার শিকার হয়েছি।
আরও পড়ুন: এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ইসহাক সরকার
প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ ইসহাক সরকার এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে কিছুদিন আগে। এর প্রেক্ষিতেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মোহাম্মদ ইসহাক সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মোহাম্মদ ইসহাক সরকার সর্বশেষ স্বতন্ত্র প্রতীক ‘ফুটবল’ মার্কা নিয়ে ঢাকা-৭ (আসন নং- ১৮০ লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর) থেকে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমানের কাছে হেরে যান। নির্বাচনে আসনটি থেকে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবন থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে বড় জায়গা করে নেন তিনি। বিএনপির আহ্বানে হরতাল-অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ইসহাক সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।