জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ © টিডিসি
জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সকল খুনীর বিচার ও শাস্তি কার্যকর করতে ছয় মাসের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। এছাড়াও ফ্যাসিবাদী সংবিধান বাতিল এবং আইন করে আওয়ামী লীগসহ সব ফ্যাসিবাদী দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছে তারা। আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে ও সন্ত্রাসবাদী আইনে নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে সারা দেশে কার্যালয় খুলতে দিয়ে জনগণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। সবাই সন্দেহ করছে ভারত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করছে। ফলে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাসহ জুলাই গণহত্যার বিচার হওয়া নিয়ে সন্দেহ সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও দোসর দল-সংগঠনের দলগত বিচারের বদলে যে পুনর্বাসন হবে তার আলামতও স্পষ্ট হয়ে গেছে। কারণ ইতিমধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংসদে আইন পাস করে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে চুপ করে থাকার অবকাশ নাই বলে মন্তব্য করেন খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, বিচার আদায় করতে হলে আমাদেরকে লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে থাকতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে যেন বিচার ও শাস্তি কার্যকর হয় এজন্য দুই মাসের মধ্যে জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনাল খোলা ও সকল অভিযুক্ত খুনীকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে জনগণকে রাজপথে হাজির করা হবে। ফ্যাসিবাদী দল ও সংগঠনের দলগত বিচারের দাবি আদায়েও রাজপথে প্রতিরোধ ও সংসদ ঘেরাও করা হবে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানকে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে খোমেনী ইহসান বলেন, শহীদ খালেদা জিয়া বিপুল জনারণ্যে ঘোষণা দিয়ে গেছেন জনগণের সরকার কায়েম হলে বর্তমান সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা হবে। তার এ অবস্থান বাংলাদেশের আপামর জনগণেরই অবস্থান। কারণ জনগণ দেখেছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা বর্তমান সংবিধানের দোহাই দিয়েই পরপর তিনটি নির্বাচন জালিয়াতি করেছে, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে, শতশত মানুষকে গুম করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধান ফ্যাসিবাদী হওয়ার বড় প্রমাণ হলো ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ মুজিবের ছবি উত্তোলনকে সাংবিধানিক আইনে পরিণত করা হয়েছে। তাছাড়া এ সংবিধানে ৯২ ভাগ মুসলমানের ওপর ধর্মনিরপেক্ষতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মুসলমানের ওপর যেমন জবরদস্তি তেমনি অমুসলিমদের জন্য কোনও উপকার বয়ে আনেনি। বরং ধর্মনিরপেক্ষতা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান সব ধর্মকেই অধিকারহীন করেছে। সবচয়ে বড় কথা হলো এ সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকারের কোনও স্বীকৃতি নাই। এটি প্রধানমন্ত্রী, তার আজ্ঞাবহ আমলাতন্ত্র, সরকারি দল ও শাসক শ্রেণীর জমিদারী কায়েম ও জনগণকে প্রজা বানানোর সংবিধান। তাই এ সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করে জনগণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।
ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ বলেন, আমরা দেখেছি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে জনগণের আবেগ ক্যাশ করার জন্য শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর সরকার শহীদ হাদি হত্যার বিচারের কথা ভুলে গেছে। এছাড়া সরকার সংষ্কারকে পাশ কাটিয়ে জুলাই বিপ্লবকে উপেক্ষা করতে চাচ্ছে।