আল-জাজিরার প্রতিবেদন

জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান: যার সঙ্গে সবাই এখন দেখা করতে চায়

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ PM , আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ PM
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান © আল-জাজিরা

কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের রাজনীতির অভিজাত শ্রেণি ও বিদেশি কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও তার দলকে এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু এখন মতামত জরিপে দলটি যখন ভালো অবস্থানে আছে, তখন সেই কূটনীতিকরাই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ভিড় করছেন। গত বুধবার দলের আমির শফিকুর রহমান একটি উচ্চাভিলাষী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশতেহারে মূল প্রতিশ্রুতি ছিল—দল ক্ষমতায় এলে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ভিত্তি তৈরি করা। রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে ৬৭ বছর বয়সী শফিকুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইশতেহারে স্লোগান বেশি, বিশদ পরিকল্পনা কম। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বের কাছে ইশতেহার আর্থিক হিসাবের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার বিষয়েই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে এমন একটি দল হিসেবে তুলে ধরেছেন, যারা ধর্মীয় মতাদর্শে এতটাই আবদ্ধ যে, একটি তরুণ, বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক সমাজ পরিচালনায় তারা অক্ষম। কিন্তু নতুন ইশতেহারদলটিতে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছে, যারা ধর্মীয় পরিচয় ও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে কোনও বিরোধ দেখছে না।

দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের তালিকাও ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, অভিজাত শ্রেণি ও বিদেশি কূটনীতিকরা তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতেন, কিংবা গোপনে সীমিত যোগাযোগ রাখতেন। এখন তাদের সঙ্গে সে যোগাযোগ প্রকাশ্যেই হচ্ছে।

গত কয়েক মাসে ইউরোপীয়, পশ্চিমা এমনকি ভারতীয় কূটনীতিকরাও ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় যে নেতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় ‘অস্পৃশ্য’ মনে করা হতো, সে নেতার সঙ্গেই এখন সবাই কথা বলতে চাইছেন। যে নেতার দল দুইবার নিষিদ্ধ হয়েছিল, সবশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়—তার সামনে আসন্ন নির্বাচন এমন একটি প্রশ্ন আসছে, যা এক বছর আগেও কেউ উচ্চারণ করতে সাহস করতেন না। আর তা হলো, শফিকুর রহমান কি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন?

‘মানুষের জন্য লড়ব’

জামায়াতে ইসলামী ও দলের শীর্ষ নেতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির এ পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হওয়া শূন্যতা। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায়নি, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকেই নাড়িয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনীতির কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে।

আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে। বিএনপি একমাত্র বড় দল হিসেবে টিকে থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সে শূন্যতা পূরণ করবে। বাস্তবে সে জায়গা দখল করে নিয়েছে দীর্ঘদিন কোনঠাসা হয়ে থাকা জামায়াত।

নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এখন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিছু জরিপে দলটি বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এ রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, বলছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

শফিকুর রহমান ২০১৯ সালে জামায়াতের নেতৃত্বে আসেন, তখন দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘জঙ্গিবাদে সহায়তার’ অভিযোগে। ১৫ মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার আসামির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই আবেগঘন কিন্তু হিসেবি জনসমাবেশে শফিকুর রহমান ব্যাপক আলোচনায় আসেন। গত জুলাইয়ে ঢাকার এক বিশাল সমাবেশে তীব্র গরমে দুবার মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ যতদিন হায়াৎ দেবেন, ততদিন আমি মানুষের জন্য লড়ব। জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা মালিক নয়, খাদেম হব। কোনও মন্ত্রী প্লট নেবে না, করমুক্ত গাড়ি নেবে না। চাঁদাবাজি হবে না, দুর্নীতি হবে না। তরুণদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি।’

জামায়াতের ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা

সমর্থকদের কাছে শফিকুর রহমান একজন সহজপ্রাপ্য, নৈতিকতায় দৃঢ় নেতা—যিনি ঘরে থাকার চেয়ে বাইরে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে দলের আমির হিসেবে তিনি জামায়াতের ভেতরে দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে এখন তার চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাচন নয়, ভাবমূর্তি রক্ষারও।

দলে নতুন সমর্থকদের টানতে গিয়ে তিনি জামায়াতকে ধর্মীয় দল থেকে ‘সুশাসন, শৃঙ্খলা ও পরিবর্তনের বাহন’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। এ পরিবর্তন কতটা বাস্তব আর কতটা কৌশলগত—সেটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ পুনর্গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ১৯৭১ সালের ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ও পরবর্তী যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিষয়টি আজও দলটির পিছু ছাড়েনি।

ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে ‘অতীতের ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে নির্দিষ্ট করে দায় স্বীকারের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। দলটির সমর্থকদের মতে, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতা, আর সমালোচকদের মতে এটি ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা।

নারী নেতৃত্ব

জামায়াতের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীর পক্ষে দলের শীর্ষ পদে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ সবাইকে আলাদা স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ সন্তান জন্ম দিতে বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারে না। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে।

আরও পড়ুন: ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন কারা, কত ব্যয় করতে পারবেন প্রার্থী?

তার এই বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার পর এমন অবস্থান জামায়াতের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নতুন কিছু নয়—জামায়াত কখনও সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি।

‘দাদু’ শফিকুর

তরুণ সমর্থকদের কাছে এসব বিতর্কের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছেন শফিকুর রহমান নিজেই। প্রচারণায় তরুণদের অনেকেই তাকে ডাকছেন ‘দাদু’ বলে। চট্টগ্রামে আইনের এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলেন। অন্য নেতারা তরুণদের তুচ্ছ করেন, কিন্তু শফিকুর রহমান তা করেন না।’

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচনে জিতুক বা হারুক—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডা. শফিকুর রহমান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ‘তার রাজনৈতিক দর্শন এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিন্তু দলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নিঃসন্দেহে দৃঢ়।’

পুরুষদের তুলনায় কেন নারীরা বেশি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন?
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝিনাইদহে বাসের ধাক্কায় হোটেল শ্রমিক নিহত
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শূণ্য ১৩ লাখ পদ: ১০০ লিখিত, ৪০ ভাইভা— কোনো গ্রেডে ৫০-এ ২৫, …
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নভোএয়ারে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরি
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বরও কমছে, ভাইভায় বাড়ছে…
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝালকাঠিতে গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9