ঢাবির এফএইচ হলের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগীর বন্ধু

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮ AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের এক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের দেখিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে এই ফুটেজ দেখানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে। ফুটেজ দেখার পর ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বন্ধু ঢাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবির হাসান।

ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি এফএইচ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের কথা জানান। একই সঙ্গে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও কথা উল্লেখ করেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবির হাসান এসব তথ্য জানান। 

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ১৭ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন তার বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহিমকে হল অফিসে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। ফেসবুকে প্রভোস্টের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

আবির হাসানের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে ইব্রাহিমকে হল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। রুমে প্রবেশের পর প্রভোস্ট তাকে উচ্চস্বরে ধমক দিতে থাকেন এবং বসতে না দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এরপর ইব্রাহিমের মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। ইব্রাহিম বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রভোস্ট দরজার সামনে গিয়ে তার পথ আটকে দেন এবং হলের কয়েকজন কর্মচারীকে ডেকে আনেন। পরে ইব্রাহিমের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন নিয়ে সেটি হলের কর্মচারী মারুফের কাছে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আবির হাসানের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৪ মিনিটের দিকে হলের একজন কর্মচারী ইব্রাহিমের বাসায় ফোন করেন। ফোনটি তার অসুস্থ মায়ের কাছে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় ইব্রাহিম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

এরপর ইব্রাহিমকে একটি লিখিত বিবৃতি দিতে বলা হয় বলে দাবি করেন তার বন্ধু। দুপুর ১টা ১২ মিনিটে একটি প্রিন্টেড স্টেটমেন্ট দেওয়া হয় এবং সেটি হাতে লিখে জমা দিতে বলা হয়। প্রভোস্ট দাঁড়িয়ে থেকে বিবৃতিতে কী কী লিখতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। প্রথমবারের লেখা প্রভোস্টের মনমতো না হওয়ায় সেটি পুনরায় লিখতে বলা হয় এবং পরে দ্বিতীয়বার লেখা বিবৃতি জমা দেওয়া হয় বলে জানান আবির।

তিনি আরও দাবি করেন, দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে ইব্রাহিমের মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রায় এক ঘণ্টা ফোনটি হলের কর্মচারী মারুফের কাছে ছিল বলে তার দাবি। ইব্রাহিমকে হলের সিট ও ছাত্রত্ব বাতিল এবং সাইবার মামলার ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে প্রভোস্টের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিতে এবং হল অফিসে ঘটে যাওয়া ঘটনা কারও সঙ্গে শেয়ার না করতে বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ইব্রাহিমকে হল অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ইব্রাহিমকে হল অফিসের প্রভোস্টের কক্ষে রাখা হয়েছিল।

এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম তদন্ত চলাকালীন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আবির। নতুন প্রভোস্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রভোস্টের কক্ষে তালা রাখার দাবিও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব, হলের হাউজ টিউটর ও কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আল আমীন শিকদার ভিপি আবু নাঈমকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নাঈম, ভিডিও শুধু এটাই না, বাকিগুলোও তদন্ত হবে, সব দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আবির হাসানের প্রশ্ন, তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত একজন শিক্ষক এমন বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারবেন কি না।

ভুক্তভোগীর বন্ধু আবির হাসান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে তিনি যে ঘটনা দেখেছেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করার সুযোগ না পান।

আরও পড়ুন: ঢাবির হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রক্টরিয়াল টিম-শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফজলুল হক মুসলিম হলের অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইকে কেন্দ্র করে প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাক্‌বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ফজলুল হক মুসলিম হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার জনাব আলী আকবর ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, দুপুরে প্রক্টরিয়াল টিম হলের অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের জন্য আসে। এ সময় শিক্ষার্থী ও প্রক্টোরিয়াল টিমের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে প্রক্টোরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীরা হলের অফিস কক্ষে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের (এফ এইচ হল) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার অভিযোগ করেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট কার্যালয়ের তালা ভেঙে জোরপূর্বক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়ার জন্য প্রক্টোরিয়াল টিম আসছে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রক্টোরিয়াল টিমকে শিক্ষার্থীদের ফুটেজ দেখিয়ে নিতে বললে এটা নিয়ে বাক্‌বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রক্টোর আমাদের জানিয়েছে রাত ১০টায় উপাচার্যের রুমে শিক্ষার্থীদের ৩জন প্রতিনিধি সদস্যকে দেখাবে। 

এর আগে প্রক্টরিয়াল টিমের বিরুদ্ধে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব বা ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেন ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি দাবি করেন, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তারও আগে গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন। এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

নিয়ম মেনে নিয়োগ পেলেও আইনের গ্যাঁড়াকলে চাকরি হারালেন ৮ কর্ম…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
‘আমি অন্তিম মুহূর্তে’ পোস্টের পরদিনই চলে গেলেন বেরোবির জাহি…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
টেস্টে ফেল করলে কি এসএসসি পরীক্ষায় বাধা দিতে পারে স্কুল?
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাবির এফএইচ হলের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, নির্যাতনের বর…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
আজ দেশের যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ইট-বোতল-ভাঙা আয়না দিয়ে বাসের সিট দখল, কুবি শিক্ষার্থীদের ক্…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬