ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন
প্রতীক ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল শুক্রবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি। শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বলরুমে এ ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ইশতেহার প্রকাশ করবে বিএনপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে নির্বাচনী ঘোষণা পেশ করতে যাচ্ছে, এই ইশতেহারে শ্রমিকরা যা চেয়েছে তারচেয়েও বেশি বিএনপি বলবে। সবাই শুধু দ্রব্যমূল্যের কথা বলছে। কিন্তু তাদের যাতায়াত ভাড়া এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত খরচ হয়। আমরা বলবো, আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের যে বৃদ্ধি তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে আমাদের মজুরি।
পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেসময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের হোটেল লেকশোরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত তার উপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জন মানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, এখানে আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে উনাদের যে ভিশন রয়েছে, যে রূপকল্প রয়েছে সেটিকে যেমন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে একদম সাধারণ মানুষের যে সমস্যাগুলো রয়েছে তারা কি চাচ্ছে? আমাদের মূল লক্ষ্য এমনভাবে পরিকল্পনাগুলো সাজানো যেটি বাস্তবভিত্তিক হয়, যেটা টেকসই হয়।
মাহদী বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন সে ঐতিহাসিক তিনি বলেছিলেন, ‘হি হ্যাজ এ প্ল্যান’। এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন যেখানে নিজে তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে ইনশআল্লাহ বাংলাদেশ।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ৩১ দফা এবং ২৭ দফা নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছে বিএনপি। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ এবং খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানীসহ জনমুখী ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যও ইশতেহারে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নারী এবং তারুণ্যের আকাক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে ইশতেহারের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ইশতেহারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাক-স্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই সনদের আলোকে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেয়ার কর্মপরিকল্পনা ইশতেহারে থাকবে।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে নির্বাচনী ঘোষণা পেশ করতে যাচ্ছে, এই ইশতেহারে শ্রমিকরা যা চেয়েছে তারচেয়েও বেশি বিএনপি বলবে। সবাই শুধু দ্রব্যমূল্যের কথা বলছে। কিন্তু তাদের যাতায়াত ভাড়া এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত খরচ হয়। আমরা বলবো, আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের যে বৃদ্ধি তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে আমাদের মজুরি—নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য।
জানা যায়, দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। ওই কর্মসূচিতে যেসব পলিসি দেয়া হয়েছিল, মূলত সেগুলো ইশতেহার থেকে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড, পরিবেশ-এগুলো মূল প্রাধান্য পাচ্ছে। এর বাইরে সুশাসন, রাষ্ট্রকাঠামো, জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন, মানবাধিকার রক্ষা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণ ইশতেহারের মূল বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জানা যায়, ইশতেহারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ও প্রতিশ্রুত এবং জনসাধারণের ব্যাপক আগ্রহের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০০-২৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়া হবে। কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কৃষক কার্ড নিয়ে বলা হয়-ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সুবিধা, স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, মোবাইলে ফসলের চিকিৎসা সুবিধা, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে বিএনপির পরিকল্পনায় বলা হয়েছে-দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে, দেশ জুড়ে সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, যার ৮০ ভাগ হবেন নারী, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি মহানগর ও জেলা শহরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন, দক্ষ জনশক্তি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিষয়ে উল্লেখ থাকবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা অর্জনসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রদানের প্রতিশ্রুতি থাকবে বিএনপির ইশতেহারে। এছাড়া, শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টারি ও অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে কারিকুলাম ও নৈতিক শিক্ষার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা, ক্লাস সিক্স থেকে টিম-ওয়ার্ক, পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে থাকছে।
এছাড়া দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে, আত্মকর্মসংস্থান ও বহির্বিশ্বে চাকরির সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ইত্যাদি খেলা এবং সংগীত, নৃত্য, নাটক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করবে বিএনপি।
ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ সেবা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকবে।
সুস্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী সবার জন্য পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং সারা দেশে পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি থাকবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে।
এছাড়া, তৃতীয় ভাষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, আইটি ও কারিগরিসহ সকল বিষয়ে মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করে গড়ে তুলে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সকল ক্যাডার ও নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে, জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে, ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে, দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হবে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হবে, প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-বিকেএসপির শাখা প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি থাকছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক থেকে আরবি-জাপানিজসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা চালু হবে
নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি সারা দেশে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন-পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজ উন্নয়ন ও পদ্মা ব্যারেজের মতো প্রকল্প গ্রহণ করা, পরিবেশ ও জলবায়ুর উন্নয়নে সারাদেশে অন্তত ২৫ কোটি বৃক্ষ পাঁচ বছরে রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি রাখবে বিএনপি। আর সারা দেশে পর্যায়ক্রমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওয়াদ।
খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবগণের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে তাদের মাসিক সম্মানী প্রদান, ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা দেয়া, দক্ষতা-উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, অন্য ধর্মের (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য) উপাসনালয়ের প্রধানদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে বিএনপির ইশতেহারে।
ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ সেবা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকবে। অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেয়ার পরিকল্পনাও ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইশতেহার প্রসঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, দেশ গড়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনাই বিএনপির ইশতেহারের মূল কথা। সাধারণ মানুষের সামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলোই এখানে অগ্রাধিকার পেয়েছে। বিশেষ করে নারীর মর্যাদা, স্বীকৃতি ও ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য থাকবে কৃষক কার্ড। কৃষি ব্যবস্থাপনা, কৃষকের সুরক্ষা, উৎপাদিত পণ্যের বীমা সুবিধা, সার ও বীজে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি ও নিয়োগ খাতে প্রণোদনার মাধ্যমে ১৮ মাসে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
ধর্মীয় খাতে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে ডা. পাভেল বলেন, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও ধর্মযাজকদের প্রণোদনা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যখাতের প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি। এই খাতে দুর্নীতি রোধে বেগম খালেদা জিয়ার জিরো টলারেন্স নীতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।