জাতীকরণের দাবিতে শিক্ষকদের মহাসমাবেশ © ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের আমির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো প্রাইমারি স্কুলের ন্যায় সরকারি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে প্রতি জেলায় একটি করে আলীয়া মাদ্রাসা সরকারিকরণ করার কথাও উল্লেখ করেছে জামায়াত। তবে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাণের দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে গেছে জামায়াতের ইশতেহারে।
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জামায়াতের নির্বচানী ইশতেহার এখনো পড়ে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে ইশতেহারে যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি না থাকে তাহলে সেটি হবে দুঃখজনক।’
ইশতেহারে মাদ্রাসা শিক্ষা ক্যাটাগরিতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখে কারিকুলামকে আধুনিকায়ন এবং সমন্বিত ও সামগ্রিক শিক্ষানীতি (Holistic Education) গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে যাতে তারা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে৷
মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণ, প্রাপ্যতা ও উপযোগিতার আলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদ্রাসাকে সরকারিকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আরব বিশ্বসহ বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েটদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো প্রাইমারি স্কুলের ন্যায় সরকারি করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতি জেলায় একটি করে আলীয়া মাদ্রাসা সরকারিকরণ করা হবে।
কওমী শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে জামায়াত তাদের ইশতেহারে বলেছে, কওমী শিক্ষা কাঠামো ঠিক রাখা, কওমী শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জন ও কওমী শিক্ষার প্রসারসহ সার্বিক উন্নতির জন্য কওমী অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বী আলেম তথা আকাবিরে আসলাফদের পরামর্শে বাস্তবায়ন করা হবে। কওমী মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও হাইয়াতুল উলইয়ার সার্টিফিকেটের যথাযথ মূল্যায়নসহ সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
দেশ-বিদেশে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার (থিওলজি) জন্য যোগ্য ইসলামী স্কলার তৈরির জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা, উচ্চতর ইলমী ইন্সটিটিউট/সেন্টার প্রতিষ্ঠাসহ প্রয়াজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।