ঢাকা-৭
ঢাকা ৭ আসনে আলোচনায় আছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান, জামায়াতের এনায়েত উল্লাহ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক সরকার © টিডিস ফটো
লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালির আংশিক নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসন। ব্যবসা নির্ভর এলাকা, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক কারণে গুরুত্ব আছে আসনটির। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সমীকরণে বদলে হাত বদলের শঙ্কা করছেন অনেকে। আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমানের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক সরকার। ফলে আসনটি জয় করার সুযোগ এসেছে জামায়াতের সবচেয়ে ধনী প্রার্থী এনায়েত উল্লাহর সামনে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ সংসদীয় আসন। লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালির আংশিক ও কামরাঙ্গীরচরের আংশিক এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই আসন ব্যবসা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন। পূর্বে নাজিরাবাজার, পশ্চিমে হাজারীবাগ, উত্তরে পলাশী ও দক্ষিণে কামরাঙ্গীরচর। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন।
স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি অধিকাংশ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। আসনটিতে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আসনটিতে জয় লাভ করে বিএনপি। ১৯৮৬ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল নির্বাচিত হন। ১৯৯১. ৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন মাসের নির্বাচন এবং ২০০১ সালে বিএনপির সাদেক হোসেন খোকা আসনটিতে টানা জয় লাভ করেন। ২০০৮ সালে ও পরবর্তীতে বিতর্কিত ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটিতে দখলে রাখে। তবে এবার বিএনপি প্রার্থীর বিপরীতে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লাহ পেশায় ব্যবসায়ী। হলফনামায় তথ্য অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদ আছে ১১৬ কোটি টাকার। তবে তার ৮২ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৭ টাকা ঋণও রয়েছে। হলফনামায় নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ উল্লেখ করেছেন তিনি। মূল্যবোধের রাজনীতির বার্তা নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, ঘুস ও সুদমুক্ত সমাজ গড়তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ নিজেকে তুলে ধরছেন পুরান ঢাকার ঘরের সন্তান হিসাবে। প্রায় ৩৯ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে উঠে এসেছেন তৃণমূল থেকে। হলফনামায় তথ্য অনুযায়ী, হামিদুর রহমান পেশায় ব্যবসায়ী। ৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। ৬ কোটি টাকার দায়ও আছে। তার বার্ষিক আয় ৪২ লাখ ৬ হাজার ২৩৫ টাকা। হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার ও বয়স উল্লেখ করেননি তিনি। এই প্রার্থী দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক। এর মধ্যে আছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি এনপিবি পিস্তল এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ১২ বোর শটগান। হামিদুর রহমানের স্ত্রী শামীমা পারভীনের পেশাও ‘ব্যবসা’। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি নির্বাচিত হলে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন, যানজট, অগ্নিকাণ্ড ও মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লাহ পেশায় ব্যবসায়ী। হলফনামায় তথ্য অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদ আছে ১১৬ কোটি টাকার। তবে তার ৮২ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৭ টাকা ঋণও রয়েছে। হলফনামায় নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ উল্লেখ করেছেন তিনি। মূল্যবোধের রাজনীতির বার্তা নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, ঘুস ও সুদমুক্ত সমাজ গড়তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার নিজেকে তুলে ধরছেন রাজপথের ত্যাগী নেতা হিসাবে। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে ৩৬৫টি মামলা করে। এরমধ্যে ১১ মামলায় তার সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড হয়। ঢাকা-৭ আসনকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও উন্নত এলাকায় রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
আসনটির ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্যবসা নির্ভর আসনটিতে ব্যবসায়ী ও পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দা বেশি। ভোটে প্রভাবকের ভূমিকায়ও তারায় থাকেন। তবে এবার আসনটিতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। দুই প্রার্থীরই শক্ত অবস্থান থাকায় বের হয়ে যেতে পারেন জামায়াত প্রার্থী। কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন আসনটিতে অনেক আগে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত প্রার্থী। জামায়াতের নিজস্ব ভোটব্যাংক ছাড়াও জামায়াত প্রার্থী ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের একটি অংশের সমর্থন তিনি পেতে পারেন। যা ভোটের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার নিজেকে তুলে ধরছেন রাজপথের ত্যাগী নেতা হিসাবে। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে ৩৬৫টি মামলা করে। এরমধ্যে ১১ মামলায় তার সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড হয়। ঢাকা-৭ আসনকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও উন্নত এলাকায় রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
ইসলামপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল খান বলেন, পুরান ঢাকার মানুষ আসলে বিএনপিকে ভোট দেয়। তবে এবার হামিদ-ইসহাক দু’জনই জনপ্রিয়। তাই ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে, জামায়াতের প্রার্থী বের হয়ে যেতে পারে।
এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির শহিদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহানা সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সীমা দত্ত ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান।