টক অব দ্য কান্ট্রি যখন আমির বনাম এলাকার ছেলে

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৭ PM , আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০০ PM
ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের দলীয় প্রধানকে জিতিয়ে এনে মর্যাদা রক্ষা আর বিএনপির জন্য দূর্গ ঠেকানোর লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে

ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের দলীয় প্রধানকে জিতিয়ে এনে মর্যাদা রক্ষা আর বিএনপির জন্য দূর্গ ঠেকানোর লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে © টিডিসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কয়টা আসন টক অব দ্য কান্ট্রি তার মধ্যে অন্যতম ঢাকা ১৫ আসনটি। মূলত জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান আসনটি থেকে নির্বাচন করছেন। ফলে আসনটি রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসনটিতে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এলাকার ছেলে প্রচারণায় ক্যাম্পেইন চালানো বিএনপির শফিকুর রহমান মিল্টন। মিরপুর-কাফরুল নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ মূলত সাংগঠনিকভাবে বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত। জয়ের বিষয়ে আশাবাদী উভয়পক্ষই। আসনটি নিজেদের করে নিতে পূর্ণশক্তি নিয়েই মাঠে নেমেছে দুই দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে আসনটি জামায়াতের দলীয় প্রধানকে জিতিয়ে এনে মর্যাদা রক্ষা আর বিএনপির জন্য দূর্গ ঠেকানোর লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আসনটির ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার। যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী ভোটার। আসনটি সীমানা নির্ধারণের আগে ঢাকা ১১ আসনের অর্ন্তভুক্ত ছিলো। স্বাধীনতার পর থেকেই আসনটি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে আসছে। সীমানা পরিবর্তনের পর ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা-১৫ আসন টানা আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এরমধ্যে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। ফলে প্রথমবারের মত ঢাকা-১৫ আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো দল থেকে সংসদে নিজেদের প্রতিনিধি পেতে যাচ্ছে। 

শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে জামায়াত ইসলামীর আমীরের দায়িত্বে। জন্মস্থান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায়। ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনীতি শুরু করেন। পরে ১৯৭৭ সালে ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। সিলেট মেডিকেলে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি প্রথমে উক্ত মেডিকেলের শিবিরের সভাপতি ও পরবর্তিতে সিলেট শাখার সভাপতি হন।

আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই দলের মধ্যে।  গত ২০ জানুয়ারি মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫–১৬ জন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপির কর্মীরা তাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগের মধ্য দিয়ে সংঘাতের রাজনৈতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ধরনের সহিংসতা ও প্রকাশ্য সংঘর্ষে ঢাকা–১৫ আসনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়লেও এরপর সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশেই চলছে জনসংযোগ।

ডা. শফিকুর রহমানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে তিনি জামায়াত ইসলামীর আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। তার জন্মস্থান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। পরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। সিলেট মেডিকেলে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি প্রথমে উক্ত মেডিকেলের শিবিরের সভাপতি ও পরবর্তিতে সিলেট শাখার সভাপতি হন। ১৯৮৪ সালে মূল দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে তিনি সিলেট জেলা আমীর, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার স্ত্রী আমেনা বেগম পেশায় ডাক্তার ও অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

শফিকুল ইসলাম মিল্টনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 
শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেশায় ব্যবসায়ী। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিরপুরেই। নির্বাচনী হলফনামায় নিজেকে অষ্টম শ্রেণী পাস জানিয়েছেন। তিনি বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে আসনটি থেকে নির্বাচন করেছিলেন জামায়াত আমীর। স্থায়ী ঠিকানা সিলেট হলেও মিরপুরের বড়বাগ এলাকায় থাকনে তিনি। জানা গেছে জামায়াত আমীর বেশকিছু কারণে আসনটিকে বেছে নিয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে আসনটিতে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। একারণে ২০১৮ সালেও আসনটি বেছে নেন জামায়াত আমীর। এছাড়াও আসনটিতে জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। শ্রমিক পর্যায়ের ভোটারদেরও আস্থা রয়েছে জামায়াতের প্রতি। সব মিলিয়ে আসনটিতে জয়ের বিষয়ে পূর্ণ আশাবাদী দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেশায় ব্যবসায়ী। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিরপুরেই। নির্বাচনী হলফনামায় নিজেকে অষ্টম শ্রেণী পাস জানিয়েছেন। তিনি বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

নির্বাচনে জয়ী হলে মিরপুরের বর্জ্যে ভরা খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ ভাঙা রাস্তাঘাট ও লাইটপোস্ট মেরামত করা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি মনিপুর হাইস্কুলসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের মানে উন্নীত করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি। আসনটিতে জামায়াত আমিরকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ছোট ছোট দল করে পাড়া-মহল্লা ও অলি-গলিতে ভোট চাচ্ছেন তারা। ওয়ার্ডগুলোতে ভাগ হয়ে প্রতিদিন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মিছিলও করছেন তারা। 

এদিকে জামায়াত আমীর সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও মিরপুর ও কাফরুলের অলি-গলি ছুটে বেড়াচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা মিল্টন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক ও সাংগঠনিকভাবে কর্মীবান্ধব একজন নেতা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন তিনি। মিরপুরে জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে এলাকাবাসীর সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ তার। ফলে মিরপুরবাসী তাকে হতাশ করবে না বলেই মনে করছে বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা। স্থানীয় ভোটারদের কাছে তিনি ‘এলাকার ছেলে’ হিসেবে তার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

আসনটিতে প্রায় ৫০ শতাংশ নারী ভোটার হওয়ায় দুই দলই গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের। দুই দলের নারী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ছোট ছোট দল করে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন নিজদের প্রার্থীর বার্তা। জামায়াতের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিবেন নারী ভোটাররা তাই তারা তাদের প্রার্থীর নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকেও চেষ্টা করা হচ্ছে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনের। 

ট্যাগ: ঢাকা ১৫
জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় রাবি-চবির আধিপত্য, ঢাবি-জাবি-জবি…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন নিয়াগ: ই-রেজিস্ট্রেশন শুরুর সময় জানালেন এনটিআরসিএ চেয়া…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 সারাদেশে ১৩৭টি উইকেট বানানোর পরিকল্পনা বিসিবির
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ক্যান্টনমেন্টে খালিদুজ্জামানকে অবা…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জামায়াত আমিরের এক্স আইডি হ্যাক নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনের আগে পে-স্কেল নিয়ে বড় খবর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬