নির্বাচনে নিরাপত্তা-লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইস্যুতে টিআইবির ১০ উদ্বেগ

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৯ PM , আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৫ PM
নির্বাচনে নিরাপত্তা-লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইস্যুতে টিআইবির ১০ উদ্বেগ

নির্বাচনে নিরাপত্তা-লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইস্যুতে টিআইবির ১০ উদ্বেগ © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা প্রতিকূলতা, অস্থিতিশীলতা, অসুস্থ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা ও সার্বিকভাবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির সম্মেলন কক্ষে ‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর হেনস্তা ও মৃত্যু এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। তথ্য বলছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে মোট ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। ডিপফেক ও ভুল তথ্যের বাড়তি হুমকি তো রয়েছেই, এ সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। থানা থেকে লুট হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী মোট জনবলের মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য, যা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি।

টিআইবি বলছে, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিশেষ করে গত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া, উপদেষ্টাদের দলীয়করণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় ও মতবিরোধ ঘটছে। জামায়াত, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলনের মতো দলগুলোর পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। এ ছাড়া ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে অসন্তোষের পর উচ্চ আদালতে অন্তত ২৭টি রিট আবেদন দাখিল হয়েছে। আর প্রায় ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ৭৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থার অনেকগুলোই ‘নামসর্বস্ব’ বা সক্ষমতাহীন।

টিআইবি আরও বলছে, প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্য যাচাই করার সক্ষমতা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর না থাকা, অথবা থাকলেও তার পূর্ণ ব্যবহার না করার বিষয়ও রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার পারস্পরিক অভিযোগ উঠলেও এর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থান নেওয়ায় ঘাটতি দেখা গেছে।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন ও গণভোট উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি, আইন ও প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করে ভুল ও অপতথ্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ ছাড়া নানা প্রতিকূলতা, অস্থিতিশীলতা, অসুস্থ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা ও সার্বিকভাবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনমুখী পরিবেশ বিরাজ করছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি।

বিসিবি সভাপতিকে নিয়ে আসিফ আকবরের আবেগঘন পোস্ট
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিমানের এমডি ও তার স্ত্রীসহ চারজন কারাগারে
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে ৪৬তম বিসিএসে পিএসসির বিশেষ উদ্যোগ
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তিন বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত কর্মজীবী নারীদের সাথে মতবিনিময় করল…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস …
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন উপজেল…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬