টিআইবির প্রতিবেদনে জুলাই গণহত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আড়াই লাখ আসামীর ৫৭ হাজার গ্রেপ্তার, ৫৫ ভাগই জামিনে মুক্ত

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৯ PM
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি © সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় প্রায় দেড় বছরে মোট ৪ হাজার ১৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ২ লাখ ২৪ হাজার আসামীর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৭৫ হাজার ৪০০ জন, যা মোট আসামীর এক-তৃতীয়াংশ। তবে গ্রেপ্তার এসব আসামীদের ৫৫ ভাগই বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির সম্মেলন কক্ষে ‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হওয়া এসব মামলায় অনেককে ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছে। টিআইবি বলছে, মোট আসামীর প্রায় প্রায় দেড় লাখই ঢালাও মামলার শিকার। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৪ জন। ঢালাও মামলার বড় প্রমাণ হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া ৬৬৩টি মামলার কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি, যার ৪৫৩টিই হত্যা মামলা।

টিআইবির প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার হত্যাকারী, হত্যার নির্দেশদাতা ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৮৩৭টি। এসব মামলার মাত্র ১০৬টিতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। চার্জশিট দাখিলকৃত হত্যা মামলা রয়েছে মাত্র ৩১টি। এসব মামলায় পতিত সরকারের ১২৮ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়াগণ-অভ্যুত্থানে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সারা দেশে পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলায় ১ হাজার ১৬৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৬১ জন।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমেও বেশ কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। এর মধ্যে ৪৫০টি অভিযোগ ও ৪৫টি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০৯ জনকে আসামী করা হয়, তবে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৮৪ জন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের বিচার করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

ইতোমধ্যে দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর একটিতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড, রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আরেকটি মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে মোট ১২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যাতে ১০৫ জনের বেশি অভিযুক্ত রয়েছেন।

টিআইবির প্রতিবেদনে ঘাটতি হিসেবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযুক্তের গোপনে দেশত্যাগ এবং দেশত্যাগে সেনাবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা ও স্থানীয় রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের এবং ঢালাওভাবে আসামী হিসেবে নাম দেওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে টিআইবির প্রতিবেদনে।

ঘাটতি হিসেবে টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা এবং চাঁদাবাজি ও হয়রানির উদ্দেশ্যে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নামেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চাপের মুখে তদন্ত না করে মামলা গ্রহণ, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়রানি, গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে আক্রমণের শিকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর
উপস্থিতিতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগকৃত বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে টিআইবির প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পর্যবেক্ষণে টিআইবি বলছে, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু এবং কিছুক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও ঢালাও মামলা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধরন
অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট মামলা না দেওয়ার ফলে মামলার ভিত্তি দুর্বল হওয়া ও মামলার প্রতিবেদন তৈরিতে চ্যালেঞ্জ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে পদ্ধতিগত জটিলতা ও ঘটনার পরিষ্কার চিত্র না থাকার বিষয়টি। এ ছাড়া কিছু কিছু বিভাগীয় পদক্ষেপের বাইরে বাস্তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর জবাবদিহির অগ্রগতি হয়নি। মূলত সরকারের সদিচ্ছা ও সক্ষমতার ঘাটতির ফলে এটি হয়েছে বলে মনে করছে টিআইবি।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পুরনো ধারা বিদ্যমান রয়ে গেছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের ও বিনা বিচারে আটক, মামলায় জামিনযোগ্য হলেও জামিন না দিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা, ক্ষেত্রেবিশেষে সরকারি প্রভাব এবং সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। বিচারের রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রসারণ করার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত দেখা গেলেও পুরোপুরি ন্যায্য ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিচারকার্য সম্পাদন ও বিচারের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সমালোচনা রয়েছে বলেও মনে করছে টিআইবি। এ ছাড়া বিচার প্রক্রিয়ায় দুর্বলতার কারণে প্রকৃত অপরাধীদের ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত হলো ‘সরকারি’
  • ১৯ মে ২০২৬
চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা-বেইজিং ফেলোশিপ’ চালুর প্রস্তাব দি…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স রিলিজ স্লিপ…
  • ১৯ মে ২০২৬
গ্রেট স্কলারশিপে স্নাতকোত্তরের সুযোগ যুক্তরাজ্যে, করুন আবেদন
  • ১৯ মে ২০২৬
উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে টাকা চেয়ে ব…
  • ১৯ মে ২০২৬
দেশে থাইরয়েড আক্রান্তদের ৬০ ভাগই চিকিৎসার বাইরে, প্রতি ৭ রো…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081