শীর্ষ ঋণগ্রস্ত প্রার্থীতার তালিকা প্রকাশ টিআইবির © টিডিসি সম্পাদিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ঋণ বা আর্থিক দায় রয়েছে—এমন দশজন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত এই তালিকায় শীর্ষ দশ ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর ৯ জনই বিএনপির প্রার্থী। বাকি একজন দলটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন।
টিআইবির প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, তালিকায় সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস. এম. কে একরামুল হক। তার ঘোষিত ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ১৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী এস. এম. ফয়সল, যার ঋণ ২ হাজার ৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
এ তালিকায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের। তার ঘোষিত ঋণ ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খানমের ঋণ ১ হাজার ৩৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহর ঋণ ১ হাজার ১১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ঋণ ৮৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তালিকায় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য ব্যবসায়ী মো. শাহ আলমের ঘোষিত ঋণের পরিমাণ ৮২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও শীর্ষ ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের ঘোষিত ঋণ কয়েকশ কোটি টাকা।
টিআইবির মতে, প্রার্থীদের ঘোষিত ঋণ ও আর্থিক দায়সংক্রান্ত তথ্য ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, এসব তথ্য হলফনামার মাধ্যমে প্রকাশ বাধ্যতামূলক।