ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
৭৯ আসনে বিদ্রোহী ৯২ নেতা
তিন ভাগের প্রায় একভাগ আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকবে ধানের শীষ © প্রতীকী ছবি
পতিত আওয়ামী লীগ বিহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্য বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি নিজদলের ‘বিদ্রোহী’রাই খোদ বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এসব শক্তিশালী বিদ্রোহীদের কারণে অর্ধশতাধিক আসনে ‘নিশ্চিত বিজয়’ হাত ছাড়া হয়ে হুমকির মুখে পড়তে পারে ‘ধানের শীষ’। নানাভাবে বিএনপি ও বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার। বিদ্রোহীদের নিবৃত্ত করতে গণহারে বহিষ্কারের পথও বেছে নেয় দলটি। এই বহিষ্কারের পরও এখনও নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি দলটির কমপক্ষে ৯২ জন নেতা। তারা মোট ৭৯টি আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়ে গেছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তিন ভাগের প্রায় একভাগ আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকবে ধানের শীষ।
এদিকে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে থাকা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কড়া বার্তা দিয়েছে দলটি। বিএনপি বলছে, এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের ৯০ নম্বর রোডে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের ত্যাগী নেতা হলেও ধানের শীষের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। তার আগে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দফায় দফায় নির্দেশনা দেয় বিএনপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ৭৯টি আসনে বিএনপির ৯২ জন নেতা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর তিন পর্বে বিএনপি মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। দলীয় এই ঘোষণায় নিজেদের নাম না থাকায় নির্বাচনে আগ্রহী কমপক্ষে ১৯০ জনের মতো বিএনপি নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হন। মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন। নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালান। এরমধ্যে বেশ কয়েকজনের প্রার্থিতা ইসির বাছাইতে বাদ পড়ে যায়। আবার অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেন। অনেককে চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডেকে কথা বলেন। এরপর বেশ কিছু নেতা তারেক রহমানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
আজ বুধবার নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেক ত্যাগী। কিন্তু তারপরেও ধানের শীষের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আরও জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। সেই ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রতিটি সফরে পর্যায়ক্রমে ত্যাগী ও শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী করা হবে। সিলেট সফরে তার সঙ্গে থাকবেন আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।
এদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত যারা মানছেন না তাদের জন্য নিশ্চয়ই আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির শীর্ষ এক নেতা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী না হতে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় বিএনপি। এ নির্দেশনা অমান্য করায় প্রাথমিক পর্যায়ে একযোগে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়। পরে বাকি বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেককে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও বিভিন্ন আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এতে কেউ কেউ সাড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৯২ জন নেতা নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা এখনও বিএনপির প্রার্থী বা জোট শরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, তাদের বিষয়ে দল কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখনও নির্বাচনের মাঠে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেককে ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টিটো বলেন, আমাদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তালিকা তৈরি হচ্ছে। যাদের এখনও বহিষ্কার করা হয়নি, তারাও বহিষ্কার হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেসব ব্যবস্থা নেয়া যায়, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সব নেয়া হবে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ৭৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরে দাঁড়াননি। হাইকমান্ডের প্রত্যাশা ছিল দলের সিদ্ধান্ত মেনে স্বতন্ত্র ব্যানারে দাঁড়ানো সব বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু ৯২ নেতা মাঠে থাকায় নির্বাচনের আগে দলটির ভেতরে অস্বস্তি রয়ে গেছে। এতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী আছে ময়মনসিংহে। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে ময়মনসিংহ-১ আসনে সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত শাহ্ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ-৩ আসনে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৬ আসনে উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি আখতার সুলতানা, ময়মনসিংহ-৭ আসনে আনোয়ার সাদাত, ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ আসনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তারা দলের সঙ্গে বেঈমানী করছেন। তাদের প্রতিবাদ জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে।
তিনি বলেন, আমার নিজের আসনেও ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) বিএনপির একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তিনি আমাকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ফন্দি আঁটছেন। কিন্তু এতে সফল হতে পারছেন না। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, যেসব আসনে একাধিক বিএনপি নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানে মূল প্রার্থীর ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সুবিধা পেতে পারেন প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দলগুলোর প্রার্থীরা। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি।
বহিষ্কারের পরও নির্বাচনে অনঢ় যেসব নেতারা
এদিকে, দল থেকে বহিষ্কারের পরও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা। বরং তারা ভোটে থাকার সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, বহিষ্কৃত হওয়ায় দলের নির্দেশনা মানতে তারা বাধ্য নন।
ঢাকা-১২ আসনে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে প্রার্থী করেছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলমের (নীরব) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। গেল ৩০ ডিসেম্বর তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানাও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে বিএনপি সমর্থন দিলেও মাঠে আছেন বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন। তিনি কোনোভাবেই মাঠ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করার জন্য গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বিএনপিতে যোগ দেন। সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এ আসন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। মামুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমীকে ছাড়লেও এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন দুজন। তারা হলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. শাহ আলম ও মু. গিয়াস উদ্দিন। তাদের দুজনকে ইতোমধ্যে বিএনপি বহিষ্কার করেছে।
যশোর-৫ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এ আসনও বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (অনিবন্ধিত দল) নেতা মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাছকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে। এই আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শরিক দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে একটি আসন ছাড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। তিনি ঢাকা-১৮ আর বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। মনোনয়নপত্র বৈধও হয়েছে। তবে দুই আসনেই নির্বাচন করতে চান মান্না। ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে ও বগুড়া-২ আসনে বিএনপির নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাদের দুজনের প্রার্থিতাও বৈধ হয়েছে। ঢাকা-১২ ছাড়াও রাজধানীতে আরো দুটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। আসনগুলো হলো ঢাকা-৭ ও ঢাকা-১৪।
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিগত পতিত সরকারের আমলে বারবার কারানির্যাতিত বিএনপির নেতা ইসহাক সরকার। তিনি ছাত্রদল ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
অন্যদিকে ঢাকা-১৪ আসনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামকে (তুলি) প্রার্থী করে বিএনপি। এই আসনে দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক (সাজু) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে। ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী। এই আসনে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। এই আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন। মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে শেখ আবদুল্লাহর বিপরীতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মমিন আলী রয়ে গেছেন।
কুমিল্লার তিনটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কুমিল্লা-২ আসনে রয়েছেন খালেদা জিয়ার এক সময়কার এপিএস আবদুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আসনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম, কুমিল্লা-৯ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কয়সর আহমেদের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের বিপরীতে জেলা বিএনপির জেলা সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তরুণ দেখে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত দুই সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।