আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ © টিডিসি সম্পাদিত
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। শুধু নিজেরই নয়, বাবা-মা এবং স্ত্রীর কার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তাও জানিয়েছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক হিসাব তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আজ তলব করা হয়েছিল শুধু আসিফ মাহমুদকে। আসিফ মাহমুদ তার পরিবারের ৪ জনের মোট ৯টি অ্যাকাউন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট আজ প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসিফ মাহমুদদের সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ তারা আইনানুযায়ী সকল বিধি মেনে নিজের ও পরিবারের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করছেন। মিথ্যা, অপপ্রচার, এত-শত মিডিয়া ট্রায়াল—উৎপাদিত দুর্নীতির অভিযোগ দিনশেষে স্রেফ অভিযোগ হিসেবেই থাকবে। প্রমাণিত আর হবে না।’
এর আগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে শিক্ষক হিসেবে নেওয়া ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোনের মধ্যে এখনো ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা বকেয়া রয়েছে, যা মাসিক বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। ফলে জমাকৃত অর্থ বাদ দিলে তার বাবা প্রায় ৮২ হাজার ৩৫ টাকা নিট দেনায় আছেন।
তিনি আরও জানান, তার মায়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। স্ত্রীর একমাত্র অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬১৩ টাকা। আর তার নিজের রয়েছে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে থাকা ব্যক্তিগত সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি তার সেলারি অ্যাকাউন্ট, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেতন, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য ভাতার লেনদেন হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলেন। মাসিক গড় বেতন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে সব ভাতা ও অন্যান্য লেনদেন এই সেলারি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা। সবমিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। তার দুই অ্যাকাউন্টে বর্তমানে মোট স্থিতি রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।