প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভোল্টেজ ওঠানামা যেন পরিণত হয়েছে নিয়মিত ভেলকিবাজিতে। যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত। হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নেত্রকোনা মদন উপজেলায় সরেজমিনে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই লুকোচুরিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তিরত রোগীদের অবস্থা বেশ নাজেহাল।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, মদন-খালিয়াজুরীতে প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহকের জন্য ৬টি ফিডার চালাতে ১৩-১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু মদন জোনাল অফিস বিদ্যুৎ পায় মাত্র ৪-৫ মেগাওয়াট। গত দু'তিন দিন যাবৎ মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে মদন জোনাল অফিস। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ৬টি ফিডার চালানো সম্ভব নয়, মাত্র ২-৩টি ফিডার চালানো যায়। বাকী ফিডারগুলো বন্ধ রাখতে হয়। মূলত এ কারণেই ঘনঘন লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। এছাড়া অতীতের কর্মীদের কর্ম বিরতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না পারায়, ত্রুটিপূর্ণ লাইন সংস্কার কাজে ধীরগতি হচ্ছ।
মদন হাসপাতালে ভর্তিরত আবুল হোসেনসহ কয়েকজন রোগী জানায়, দু'তিন দিন যাবৎ আমরা মদন হাসপাতালে ভর্তি আছি। প্রচণ্ড গরমে রোগীদের অবস্থা নাজেহাল। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দেড় ঘণ্টা থাকে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ থাকেই না। এ অবস্থায় হাসপাতালে জেনারেটর চালু থাকলে ভালো হয়।
ছাত্র অভিভাবক ঝুমুর আক্তার জানান, সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ থাকে না। প্রচণ্ড গরমে বাচ্চারা পড়তে বসতে চায় না। এতে লেখাপড়ার ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মদন বাজারের কম্পিউটার অপারেটর ব্যবসায়ী শামিম আহম্মেদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটারে কাজ করা যায় না। মানুষ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দলিল লেখক মাহাবুব জানান, গতকাল বুধবার মদন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চলাকালে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এ কারণে দলিল প্রিন্ট করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এতে করে জনসাধারণ ভীষণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
মদন জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি যার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।