নজরুল ইসলাম © সংগৃহীত
ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মী নিহতের ঘটনায় ৬৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। মামলায় বিএনপির ৩৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে; যার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর গামারীতলা গ্রামের প্রয়াত হাতেম আলীর ছেলে মো. আদম আলী (৫৪), চন্দ্রকোনা গ্রামের প্রয়াত আছম আলীর ছেলে মো. দুলাল মিয়া এবং ইব্রাহিম (৫৫)। এর মধ্যে আদম আলী ঘোষগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দুলাল মিয়া ও ইব্রাহিম বিএনপির কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী নজরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নজরুল ইসলাম (৪২) ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নিহতের স্বজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত নজরুল ইসলামের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।