শরীফ ওসমান হাদি এবং ডা. মাহমুদা মিতু © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঝালকাঠির-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মাহমুদা আলম মিতু ১১ দলীয় জোট বা ঐক্যের বিষয়টিকে টেনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারানো ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে স্মরণ করেছেন।
তিনি বলেছেন, আজকের এই ঐক্য দেখলে আমি শিওর হাদিও অনেক খুশি হতো। হাদির স্বপ্ন ছিলো পার্লামেন্টে যাবে, হাদি চলে গেলো, কিন্তু হাদির ছেলের জন্য হলেও আমাদের সামগ্রিক ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হল:
রাজনৈতিক বৈধতা আসে দীর্ঘ লড়াই এবং ত্যাগের মধ্যে। এই জোটে অনেকেই নিজের আসন ছাড়বে, নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনেক বড় ছাড় দিবে।
রাজনীতি বহুবছর ধরে ব্যক্তি স্বার্থকেন্দ্রিক ছিলো, কিন্তু এই জোটে শুধুমাত্র ব্যক্তি ছাড় দিচ্ছে না, অনেক দল ও অনেক ছাড় দিচ্ছে। প্রত্যেকে জোট রক্ষার্থে দেশের ঐক্য ধরে রাখতে আগামীর ক্ষমতাকেও অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য যাই হলো ঐক্যটাকে ধরে রাখা।
কত ছেলেরা জীবন দিলো...... ২৪ এর আন্দোলনের পর, এটাই নতুন বাংলাদেশের সূচনা। আমরা যে যার জায়গা থেকে ছাড় দিয়ে হলে ঐক্য চাই। বিভাজন আমাদেরকে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। নতুন এক বাংলাদেশ চাই যে, বাংলাদেশে রাজনীতি হবে মানুষের জন্য।
এনসিপি বরাবরই একা দাঁড়াতে চেয়েছিলো, তারপর এনসিপি নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। হাদি হত্যার পরে নানা বাস্তবতায় এনসিপি দেশের স্বার্থে জোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোট নিয়ে আলোচনাগুলোকে যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই, তেমনি সমালোচনাগুলোকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু দিনশেষে সংগঠন চলে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে। আজকের এই ঐক্য দেখলে আমি শিওর হাদিও অনেক খুশি হতো। হাদির স্বপ্ন ছিলো পার্লামেন্টে যাবে,হাদি চলে গেলো কিন্তু হাদির ছেলের জন্য হলেও আমাদের সামগ্রিক ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
শুরু থেকে আমাকে দেখেছে তারা জানে নিজের গোছানো জীবন ছেড়ে কেন, কিভাবে এখানে আছি। এই রাজনৈতিক জীবনে আমি নিজেকে অনেক বড় হুমকিতে ফেলেছি ,যখন যা বলার প্রয়োজন হয়েছে স্পষ্ট বলেছি। স্পষ্ট অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। এখনো আমি পরিবারের সেইফটির চিন্তায় নির্ঘুম কাটাই। নিজে এমন একটা জীবন বেছে নিয়েছি যে পিছনে ফেরার উপায় নেই। দেশের প্রয়োজনে নিজেকে রিস্কে ফেলেছি, কোনোদিনও অন্যায় করিনি, নিজের স্বার্থও ভাবিনি, আগামীতেও ভাববো না, ইনশাআল্লাহ। দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তিগত ছাড় দিতেও আমিও দুইবার ভাববো না ইনশাআল্লাহ।
আমি আল্লাহর উপর তাওক্কুল করে চলি। আমি বিশ্বাস করি আমার জন্য যা আছে তা পাহাড়ের ওপারে থাকলেও আল্লাহ আমাকে পৌঁছে দিবেন।
কেউ বলছে, আসন বেশি দিয়ে জামায়াত হেরে গেলো, হ্যান হলো ত্যান হলো কিন্তু হাদির সেই কথাটা মনে হলো জিতটাই আসল নয়। আমাদের এই আজাদির লড়াই দীর্ঘ। এই ঐক্য ও আমাদের এক ধরনের জিত।
নাহিদ ইসলাম আমার ছোট ভাই কিন্তু আমার বড় নেতা। নাহিদ ইসলামকে আমি বিশ্বাস করি, স্নেহ করি, শ্রদ্ধাও করি। ২৪ এর আন্দোলনেও তার উপর আস্থা ছিলো এখনো তার সকল সিদ্ধান্তে আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে,আগামীতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।