নির্বাচন কমিশনের লোগো © টিডিসি ফটো
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ৯টি দল। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর তুলনামূলক ভোটের আমেজ ফিরলেও, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সক্ষমতা ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে—তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। একই কারণে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্য শরীক দলগুলোকেও ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর একটি বড় অংশই সীমিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মোট ২৯টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মাত্র ১ থেকে ২০টি আসনে। বিপরীতে, ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি দল। এর মধ্যে বিএনপি ৩৩১টি আসনে, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি, জাতীয় পার্টি ২২৪টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে।
তবে আসনভিত্তিক এই হিসাব বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য আসন সমঝোতার কারণে এখনও পরিবর্তনশীল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ২৩টি দলের প্রার্থী সংখ্যা ১০টিরও কম, যা ছোট দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে অংশগ্রহণ বাড়লেও প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি এখনও গড়ে ওঠেনি। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, নিবন্ধিত দলগুলোর অন্তত ৩০টির ন্যূনতম ১০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, নিবন্ধনের সময় শর্ত পূরণ করলেও অনেক দল পরবর্তীতে সেই শর্ত নিয়মিতভাবে বজায় রাখে না, ফলে কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি হয় না।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, দলীয় অফিস ও সাংগঠনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তদারকি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। এতে রাজনৈতিক দলগুলো স্বেচ্ছায় কিংবা বাধ্য হয়ে হলেও নিজেদের কাঠামো সক্রিয় রাখতে বাধ্য হবে।
অন্যদিকে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, অনেক ছোট দল আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যেই সক্রিয় হয়। তার ভাষায়, কেউ কেউ রাজনৈতিক দল গঠনকে ব্যক্তিগত পরিচিতি বা সুবিধা আদায়ের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।
তবে এবার জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকায় আদর্শ, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক ভিত্তিহীন দলগুলোর উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, ভোটের আমেজ ফিরলেও বহুদলীয় রাজনীতিতে কার্যকর ও বিকল্প শক্তির সংকট এখনো স্পষ্ট।