মওলানা ভাসানীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান নাতি আজাদ ভাসানীর

০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৯ PM , আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০ PM
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও তারেক রহমান

আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও তারেক রহমান © সংগৃহীত

উপমহাদেশের জনমানুষের নেতা মজলুম মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আজীবনের স্বপ্ন পূরণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষন ও তার রাজনৈতিক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন ভাসানীর কনিষ্ট পুত্র আবু বকর খান ভাসানীর কনিষ্টপুত্র আজাদ খান ভাসানী।

দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে গেল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথম বারের মতো রাজধানী ঢাকার বাইরে কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল দিয়ে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলায় তিনি ৪ দিনের সফরে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের সফরের প্রথম কর্মসূচিটি শুরু হচ্ছে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে।

আগামী রবিবার দুপুর ১টায় তিনি সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করে নিজ জেলা বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সন্তোষ আগমনকে সামনে রেখে আজাদ খান ভাসানী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে এই খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিটি তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকেও দিয়েছেন।

ভাসানী পরিষদের সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানীর ‘তারেক রহমানের সন্তোষে আগমন ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হল-
আজাদ লিখেছেন, শুরুতেই মওলানা ভাসানী পরিবারের পক্ষ থেকে জনাব তারেক রহমানের মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারতকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে মওলানা ভাসানীর শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্নে আপনার রাজনৈতিক অবস্থান সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপনের ন্যায্য ও সময়োচিত দাবি জানাচ্ছি।

নিশ্চয়ই অনেকেই ইতোমধ্যে অনুধাবন করেছেন, মওলানা ভাসানীর শেষ স্বপ্ন বলতে আমরা মূলত ‘সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’-এর কথাই বলছি। আজীবন লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন মওলানা ভাসানী লালন করেছিলেন, তা আজও পূর্ণতা লাভ করেনি। এই গভীর বেদনাবোধ থেকেই জীবনের অন্তিম পর্যায়ে তিনি তাঁর জাগতিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান-অভিজ্ঞতার সারাংশ দিয়ে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন।

পীর শাহজামানের পুণ্যভূমি হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক কাগমারী পরগণা (পূর্ব নাম খোশনদপুর) থেকে ১৯৩২ সালে মওলানা ভাসানী বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে তিনি কাগমারী পরগণা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হন। ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনেই তিনি সর্বপ্রথম এই পরগণার সন্তোষে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা উত্থাপন করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৎকালীন পাকিস্তানের পাঁচজন ভাইস-চ্যান্সেলরকে নিয়ে একটি বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করা হয়।

আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন মওলানা ভাসানী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবিত ২৫ লক্ষ টাকার অনুদান গ্রহণ করেননি। একইভাবে ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খানের এলএফও-সমর্থন শর্তযুক্ত প্রস্তাব এবং আহমদিয়া সংগঠনের সহযোগিতাও তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। সব ধরনের শর্ত ও আপস নাকচ করে ১৯৭০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি নিজ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি 'সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়' -এর প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। চার স্তরে বিভক্ত শিক্ষা কাঠামোর আওতায় ১৯টি একাডেমি (অনুষদ) ও ৬০টি বিভাগ অনুমোদিত হয়, যার মধ্যে ৩০টি ছিল প্রত্যক্ষ বিজ্ঞানভিত্তিক। একই বছরের ২৭ জুলাই ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ১৮ জনকে নিয়ে থিসিস কোর্স চালু করা হয়, যার উদ্বোধন করেন স্বয়ং মওলানা ভাসানী। পরবর্তীকালে তিনি এই স্বপ্নভূমিতে নিজ হাতে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠান ও ১২টি প্রকল্প গড়ে তোলেন। 

মওলানা ভাসানী নিজে ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ড. মীর ফখরুজ্জামান। তিনি ওআইসির তৎকালীন মহাসচিব ড. করিম ঘাইকেও চিঠি লিখে প্রস্তাবিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়টি সন্তোষে স্থাপনের আহ্বান জানান।

দুঃখজনকভাবে ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর ইন্তেকালের পর এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে মওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণ এবং টাঙ্গাইলের জনসভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, "সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়িত হবেই।" কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং তাঁর শাসনামলেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়ার শান্তিডাঙ্গায় স্থানান্তর করা হয়।

আজাদ খান ভাসানী

পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একই প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন। যদিও ‘সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজ’ গঠনের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা ২০০১ সালে ৩৭ নম্বর আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডের সব সম্পদ ও দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বাস্তবে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১২টিই বিলুপ্ত করা হয়, যা স্পষ্টতই চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল।

ফলে মওলানা ভাসানীর মাজার, মসজিদ, মুসাফিরখানা, দরবার হলসহ তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আজও তাঁর নিজস্ব দর্শন ও আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারছে না। বস্তুত, এই চুক্তিকে পুঁজি করেই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে মওলানা ভাসানীর স্মৃতি ও কর্মধারাকে বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ‘বিশ্ববিদ্যালয় বনাম ভাসানীর প্রতিষ্ঠান’- এই কৃত্রিম বিভাজন সৃষ্টি করে তাঁর ঐতিহাসিক দর্শনকে আড়াল করা হয়েছে।

জনাব তারেক রহমান, আপনার পিতার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সন্তোষে মওলানা ভাসানীর স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এটি ভাসানী পরিবার ও দেশবাসীর জন্য গভীর বেদনার বিষয়। একইভাবে, ভাসানী পরিবার ও ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে যমুনা সেতুর নাম মওলানা ভাসানীর নামে নামকরণের ন্যায্য দাবি আজও উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এছাড়া, আওয়ামী শাসনামলে পরিকল্পিত নভোথিয়েটারে কেবল নাম সংযোজনের মাধ্যমে ‘ভাসানী নভোথিয়েটার’ প্রতিস্থাপনের যে প্রতীকী ও বিভ্রান্তিকর সংস্কৃতি তা আমরা সমর্থন করি না। মওলানা ভাসানীর মতো ঐতিহাসিক ও আদর্শিক ব্যক্তিত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা কেবল নামফলকে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন তাঁর দর্শন ও স্বপ্নের বাস্তব ও সম্মানজনক বাস্তবায়ন।

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই ঐতিহাসিক সময়ে আপনার নেতৃত্বে বিএনপির কাছ থেকে আমরা মওলানা ভাসানীর যথার্থ ও মর্যাদাপূর্ণ মূল্যায়ন প্রত্যাশা করি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন সহযোদ্ধা হিসেবে আপনার কাছে মওলানা ভাসানীর শেষ স্বপ্ন ‘সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ বাস্তবায়নের ন্যায্য দাবি জানাচ্ছি।

মওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসতেন ও স্নেহ করতেন। ন্যাপ-ভাসানীর অসংখ্য নেতাকর্মী বিএনপি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ন্যাপ-ভাসানীর ‘ধানের শীষ’ আজ বিএনপির প্রতীক। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতায় সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন বিএনপির জন্য কেবল একটি দাবি নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব।

আমরা আশাবাদী, আগামীর রাজনীতি হবে হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত। কুটকৌশলের পরিবর্তে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাজনৈতিক চর্চা। আপনার সন্তোষ আগমন ও মাজার জিয়ারত উপলক্ষে যদি আপনি মওলানা ভাসানীর শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি ঐক্যের ভিত্তি হয়ে থাকবে।

আমরা চাই নতুন বাংলাদেশে দেশের সকল সূর্যসন্তানের যথাযথ মূল্যায়ন হোক, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক। তখনই আমরা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে বলতে পারব, আমরা গর্বিত বাংলাদেশি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাকে মঙ্গল করুন।

নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, ৮ শ্রমিক দগ্ধ
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
৩৯ বছর পর ম্যানসিটির ১০ গোলের তাণ্ডব, লন্ডভন্ড এক্সটার সিটি
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
বল বাসার চালে পড়ায় গরম পানি নিক্ষেপ; দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত: বিতর্কিত …
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নে ‘আরেকবার চেষ্টা করে দেখার…
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
  • ১১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9