বিএনপির ৩০০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে যা জানালেন তারেক রহমান

০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪১ PM , আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ PM
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখছেন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখছেন © সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচন কমিশন যথাসময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কিংবা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। 

আজ রবিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমান বলেন, জনসমর্থিত এবং জনপ্রিয় দল হওয়ার কারণে প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, করাটাই স্বাভাবিক। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি অবশ্যই গৌরব এবং সম্মানের। দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রত্যককে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে রাজপথের সঙ্গী ছিলেন এমন প্রার্থীকেও বিএনপি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

তিনি বলেন, এই বাস্তবতার কারণে হয়তো কিছু সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতাটিকে মেনে নেবেন। দলের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করবেন। আপনাদেরকে আমি আবারও স্বাধীনতার ঘোষকের সেই কথাটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত দলীয় প্রার্থীদের নাম আমরা জানিয়ে দেব। দল যাকেই যে আসনে নমিনেশন দেবে বা দেয় অনুগ্রহপূর্বক তাকে বিজয়ী করে আনার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যেকে কাজ করবেন। 

তারেক বলেন, মনে রাখবেন আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওৎ পেতে রয়েছে। সুতরাং আপনাদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ-বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে করে প্রতিপক্ষ আপনাদের মধ্যেকার বিরোধের সুযোগ নিতে পারে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী আপনারা যারা নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সমর্থন পেতে গণসংযোগ করছেন, সবাই কিন্তু শহীদ জিয়ার অনুসারী। খালেদা জিয়ার সৈনিক, বিএনপির কর্মী, ধানের শীষের সমর্থক। মনে রাখবেন ধানের শীষ জিতলে আপনি জিতেছেন বা জিতছেন বা জিতবেন, বিজয়ী হবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি যারা প্রবাসে থেকে দেশের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে চান, বিএনপির সদস্য হতে চান, বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করতে চান, তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নেবার জন্যই বিএনপি কার্যকর একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে উদ্বোধন হচ্ছে বিএনপির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সুবিধা। প্রবাসী বাংলাদেশীগণ প্রবাসে থাকলেও অধিকাংশ প্রবাসীর পরিবারপরিজন দেশেই বসবাস করেন। সংগত কারণেই রাজনীতির সঙ্গে অনেক প্রবাসীর সরাসরি যোগাযোগ বা সংযোগ না থাকলেও পরিবার সঙ্গে কিন্তু তাদের নিবিড় যোগাযোগ বা প্রতিনিয়ত একটা যোগাযোগ আছে। ফলে প্রবাসীরা দূর প্রবাসে থাকলেও তাদের হৃদয় কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তই বাংলাদেশ। সুতরাং যেসব প্রবাসী বাংলাদেশিগণ সংশ্লিষ্ট দেশের বিধি-বিধান মেনে বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে চান তাদের জন্য সেই সুযোগ অবারিত থাকা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় প্রবাসীদেরকে সহজেই রাজনৈতিক দলের সদস্য করার ক্ষেত্রে বিএনপির এই উদ্যোগ। 

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমবেশি প্রায় দেড়কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন। চাকরি কিংবা পেশাগত কারণে অনেকে যেমন প্রবাসী হয়েছেন ঠিক একইভাবে বিগত ১৫/১৬ বছরে কেউ কেউ ফ্যাসিস্টের রোষানলে পড়েও প্রবাসী হতে বাধ্য হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্নভাবে যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। দেশে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরলস ভূমিকার জন্য প্রবাসীদেরকে জানাই কৃতজ্ঞতা। 

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা, লাখো প্রবাসী, দূর প্রবাসী থেকে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠান। জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান এই মুহূর্তে ৬ থেকে প্রায় ৭ শতাংশ। সুতরাং দেশে প্রবাসীদের পরিবার এবং তাদের অর্থসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম বিশেষ দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। প্রবাসী বাংলাদেশিগণ দীর্ঘদিন থেকেই নির্বাচনে ভোট প্রদানের অধিকার এবং সুযোগ চেয়ে আসছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তাদের সেই আশা অনেকাংশে পূরণ হতে যাচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি দেশী-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। তবে বিএনপির প্রতি দেশের গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের আকুণ্ঠ সমর্থনের কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা অধিকাংশ সময় প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। জনগণের কাছে বিএনপি একটি বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিএনপি এদেশে বহুলদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিএনপির গৌরবেরই দীপ্ত মশাল ঊর্ধে তুলে সামনে এগিয়ে চলা আমাদের দায়িত্ব। 

তিনি বলেন, বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে হাসিনা এ দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। উদ্বেগ ও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশেও বর্তমানে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার এবং অপকৌশল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদীবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে, একদিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও যতটুকুন সম্ভব আমাদের অবস্থান থেকে আমরা সহযোগিতা করে আসছি। অথচ আমরা দেখছি সমগ্র দেশবাসী দেখেছেন প্রতিনিয়ত একের পর এক নিত্য-নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে যেভাবে, গণতন্ত্র উত্তোরণের পথকে কেমন যেন একটা সংকটাপূর্ণ করে তোলা হচ্ছে। এর পরিণতি সম্পর্কেও আমাদেরকে সতর্ক থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অনলাইনে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ এবং তার ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। তাতে বলা হয়, এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে অনলাইনে বিএনপির দলীয় ওয়েবসাইটে গিয়ে সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হাসান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

ঢাবিতে তরুণদের কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর কারণ জানালেন সর্ব মিত…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
‘সাদ্দামের লগে কী করছস’ বলে বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে হুমকি
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা যা বদলে যাবে, নতুন যুক্ত হ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ দিল কনকসাস
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আ.লীগ নেতাকে ধরতে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলা, ৩ এসআই আহত
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬