বদলে যেতে পারে ভোটের চিত্র
বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল আলম © টিডিসি সম্পাদিত
সাতক্ষীরা জেলার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির-জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জেলার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনের নির্বাচনী চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করেছে। সীমানা পরিবর্তনের কারণে এই আসনটিতে বিএনপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। জামায়াতের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত এই আসনটিতে বিএনপির রাজনীতিতে নিবেদিত প্রাণ সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের কাছে গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল আলম ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী, দেবহাটা উপজেলা বাদ দিয়ে আশাশুনি ও কালিগঞ্জের মোট ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুনভাবে গঠিত হয়েছে সাতক্ষীরা-৩ নির্বাচনী আসন। ফলে পুরানো রাজনৈতিক সমীকরণে নেমেছে বড়োসড়ো পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে যারা রাজনীতির মাঠে থেকে বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশায় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন, তাদের আবার নতুনভাবে ভাবতে হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও সর্বাধিক আলোচনায় আছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি (১৯৮৩–৮৪) ও ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল আলম। ডা. শহিদুল ইসলাম ছাড়াও ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার মো. আইয়ুব হোসেন মুকুল এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা আশাশুনির সন্তান মির্জা ইয়াছিন আলী।
জানা যায়, দেশের অন্যতম খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন ডা. শহিদুল। ঢাকায় চিকিৎসা পেশার ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে নিজ জেলা সাতক্ষীরার নলতায় ফিরে আসেন গরিব ও অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিতে। কারও থেকে কোনো ফি-তো নেনই না বরং অভাবী রোগীদের নিজ থেকে ওষুধ দেন। এছাড়াও জটিল রোগীদের জেলা ও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি, সিট ম্যানেজ করে দেয়া এবং অর্থের যোগানও দেন। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন, ডা. শহিদুল আলম ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নলতার বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, আমার স্বামী হার্টের রোগী। ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হয় না। শহিদুল ডাক্তার বিনা টাকায় দেখে দেন, অনেক সময় ওষুধও কিনে দেন। তার মতো মানুষ এখন আর দেখা যায় না।
আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির ৫নং ওয়ার্ডের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা-৩ আসনে যদি বিএনপি ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে শুধুমাত্র দলীয় ভোট নয়, নিরপেক্ষ ও ভিন্নমতের ভোটও পাবে বিএনপি। কিন্তু অন্য কেউ হলে সুবিধা যাবে জামায়াতের দিকে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ভোটে জয়ী হতে হলে সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. শহিদুল আলমের বিকল্প নেই। গরিব-দুঃখী মানুষ, এমনকি অন্য ধর্মের মানুষও তাকে ভালোবাসে। ধানের শীষের সঙ্গে শহিদুল ডাক্তারের নাম দেখলে মানুষ তাকে ভালোবেসে ভোট দেবে।
কালিগঞ্জের তরুণ সমাজকর্মী সোহেল হোসেনের ভাষায়, ডা. শহিদুল আলম সংসদ সদস্য হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এবং সামগ্রিকভাবে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, যদি বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়, তবে দীর্ঘদিনের ভোট সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটবে। জামায়াতের ভোটব্যাংকেও প্রভাব পড়তে পারে। সাতক্ষীরার ভোটের রাজনীতিতে এই আসনে ১৯৮৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পালাক্রমে জয় পেয়েছে জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সাল থেকে টানা পাঁচ মেয়াদে আসনটি ধরে রেখেছিল পতিত আওয়ামী লীগ।
দলের মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ডা. শহিদুল আলম বলেন, দেবহাটা বাদ পড়ায় সাংগঠনিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাজনীতি মানুষের বিশ্বাসে হয়। কালিগঞ্জ আমার আদি বাসস্থান যার কারণে আমি পুরোপুরি ভাবে এগিয়ে আছি। ইউনিয়নগুলোতে সভা ও ঘরে ঘরে সংযোগ তৈরি করছি। মানুষই আমাকে গ্রহণ করবে, এটাই শক্তি। মানুষের কল্যাণে আমি সারাজীবন কাজ করে গেছি এবং যতদিন বেঁচে আছি ততদিন কাজ করব। আশাশুনি ও কালীগঞ্জের মানুষ আমাকে ভালোবাসে, মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এবং দল যদি আমাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেন আমি ইনশাল্লাহ জয় লাভ করব।