ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধে বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনাকে জামায়াতের হামলা বলে ছড়িয়েছেন খোদ বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টাও © ফেসবুক থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে জামায়াতের হামলা বলে ফেসবুকে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপিঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি ও পেইজ থেকে এমন দাবি করা হলেও এর কোনো সত্যতা মেলেনি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ হওয়ার পর সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই বিএনপি নেতা।
নিহত মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) ওরফে কামাল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় তার ছেলে কাকনও (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। কাকনও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সহোদর দুই ভাইয়ের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ভাইয়ের আঘাতে ছোটভাই ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন। পলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নিহত হন। এ বিষয়ে আগের মারামারির একটি মামলা রয়েছে।
বড় ভাইয়ের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক কিছু না। দুই ভাইয়ের জমি বণ্টনসংক্রান্ত মারামারি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কামালের সঙ্গে তার বড় ভাই ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সংঘর্ষ হলে কামালের মাথার এক পাশে ও তার ছেলে কাকনের হাতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হয়।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন জানান, ১৭ বছর ধরে জমি ও দোকান নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। পিতার জীবদ্দশায় জমি-জমা বণ্টন করে দিলেও তারা জোরপূর্বক আমার জমি ভোগদখল করে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে কামাল আমার জমির আইল কাটলে আমার ছেলে বাধা দেয়। তখন কামাল তার হাতে থাকা কাঁচি ও টেঁটা দিয়ে আমার ছেলে সাদ্দামকে ডিল দিলে সে সরে যায়। এ সময় তার টেঁটা দিয়ে পাল্টা আঘাত করলে তাদের গায়ে লাগে।