সেলিম আল দীনের ১৪তম প্রয়াণ ‍দিবস আজ

ব্যক্তিত্ব
প্রখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীন।  © সংগৃহীত

বাংলা নাট্য জগতের পুরোধা সেলিম আল দীনের ১৪তম প্রয়াণ ‍দিবস আজ। তিনি নিজ আঙ্গিকে আবহমান বাংলার চিরায়ত সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নাট্যরূপ দিতে খুব পারদর্শী ছিলেন। নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার ওপর তার গবেষণা রয়েছে। এছাড়া, তিনি নাট্যবিষয়ক একমাত্র কোষগ্রন্থ ‘বাংলা নাট্যকোষ’ এরও সম্পাদনা করেন।

আরও পড়ুন: কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফেনীর সোনাগাজীর সেনেরখীল গ্রামে ১৯৪৯ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মফিজউদ্দিন আহমেদ সরকারি চাকুরি করতেন ও মা ফিরোজা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পরিবারে ভাইবোনদের মধ্যে তিনি ৩ নম্বর সদস্য ছিলেন৷ বাবার চাকরি সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন৷ এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন ৷ দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে টাঙ্গাইলের করোটিয়ার সাদত কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরও পড়ুন: আবর্জনার বিনিময়ে মিলবে বই পড়ার সুযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পড়াশোনা শেষে ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে অধ্যাপনা শুরু করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার ও ঢাকা থিয়েটার নামক দুটি নাট্যদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রথম রেডিও নাটকের নাম 'বিপরীত তমসায়'। তিনি ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে ‘মহুয়া’ ও ‘দেওয়ানা মদিনা’ নামক দুটি নাটক নির্মাণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন , সংবাদ কার্টুন, বাসন, মুনতাসির ফ্যান্টাসী,শকুন্তলা , কীত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, যৈবতী কন্যার মন, চাকা , হরগজ, প্রাচ্য, হাতহদাই, নিমজ্জন, স্বর্ণবোয়াল ও পুত্র প্রভৃতি।

আরও পড়ুন: স্মৃতি থেকে আঁকা ম্যাপের সাহায্যে মা-ছেলের পুনর্মিলন

তাছাড়া, তার লেখা চিত্রনাট্য থেকে বেশ কয়েকটি ছবিও নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলো হল 'চাকা' (১৯৯৪), 'কীত্তনখোলা' (২০০০), এবং 'একাত্তরের যীশু' (১৯৯৪)। আরও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে 'কালুমাঝি',‘যৈবতী কন্যার মন’ ও ‘হাসন রাজা’ চলচ্চিত্র।

উল্লেখ্য, নাট্য জগতে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে নান্দিকার পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০১ সালে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৭ সালে একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের এইদিনে গুণী এই নাট্যকার মৃত্যুবরণ করেন।  তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।


মন্তব্য

x