মো. নিজাম উদ্দিন © সংগৃহীত
শিক্ষাকে পেশা নয় বরং জীবনের এক মহৎ ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠদান করছেন মো. নিজাম উদ্দিন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ- ২০২৬ উপলক্ষে কলেজ পর্যায়ে চরফ্যাশন উপজেলা ও ভোলা জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমিক সাফল্য, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে কার্যকর ভূমিকা, সৃজনশীল ও যুগোপযোগী পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. নিজাম উদ্দিনকে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
মো. নিজাম উদ্দিন বর্তমানে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জনতা বাজার ডিগ্রি কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চরফ্যাশন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শিক্ষাজীবনে তিনি চরফ্যাশন কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বরিশালের বিএম কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন সক্রিয় লেখক ও সংগঠক হিসেবেও পরিচিত। তার রচিত ‘বাণী চিরন্তনী’ শীর্ষক বইটি ঢাকা ও চরফ্যাশনের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া তার সম্পাদনায় ‘জ্যোতি’ ও ‘কোয়ান্টাম’ নামে দুটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্ত ও বাংলাদেশ বাণীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় তার শিক্ষামূলক প্রবন্ধ নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে।
শিক্ষা বিস্তারে অবদানের অংশ হিসেবে তিনি জনতা বাজার ডিগ্রি কলেজে পাঠদানের পাশাপাশি সকালে ‘আল-আরাফাহ কিন্ডারগার্টেন’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এছাড়া ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সুন্দর হাতের লেখা প্রতিষ্ঠান ‘থ্রি ফিঙ্গারস’-এর চরফ্যাশন শাখার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তার পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আপসহীন নিষ্ঠা চরফ্যাশনের শিক্ষা অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক ও সৃজনশীল পাঠদান, শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব এবং নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। একই সঙ্গে সহকর্মীদের কাছেও তিনি একজন শ্রদ্ধাভাজন ও অনুকরণীয় শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করে মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল ও অনুপ্রাণিত করবে। জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের এক গর্বের মুহূর্ত।