ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও করোনা জয় অজয়ের

২১ জুন ২০২০, ০৮:৩০ AM

© প্রতীকী ছবি

করোনা-আক্রান্ত পাঁচ বছরের ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন মা। একই ওয়ার্ডের করোনা-আক্রান্ত শিশুর রাতে অবস্থা বেশ খারাপ পর্যায়ে চলে যায়। পর দিন সকালে মা দেখেন, সে ‘বেড’ ফাঁকা। ব্ল্যাড ক্যান্সারে আক্রান্ত নিজের ছেলের ভাগ্যে কী আছে ভেবে গা শিউরে ওঠে তাঁর। তবে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছে পুরুলিয়ার বরাবাজারের হেরবনা গ্রামের শিশু অজয় সিং সর্দার।

করোনা-জয়ী অজয়ের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে খেলনা ও পুষ্টিকর খাবারদাবার দিয়েছে বরাবাজার থানা। পরিবারটিকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে পুলিশ। শত্রুঘ্ন সিং সর্দার ও গুরুবারি সিং সর্দারের চার সন্তানের মধ্যে অজয় ছোট। দেড় বিঘা জমি থেকে যা ধান মেলে, তাতে সারা বছর সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে দম্পতি দিনমজুরি করেন। মাটির বাড়ি, খড়-খাপড়ার চালার একটি ঘরেই তাঁদের রান্না, শোয়া সব কিছু।

গুরুবারি জানান, বছর দেড়েক আগে অজয়ের ব্ল্যাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। গত ৯ মাস ধরে কলকাতায় ঠাকুরপুকুরে সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টারে থেকে তিনি অজয়ের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘৩০ মে ক্যান্সার হাসপাতালের এক ডাক্তার জানান, অজয়ের করোনা ধরা পড়েছে। ভয়ে গুটিয়ে যাই। শুনেছিলাম, করোনা ভয়ঙ্কর রোগ। তবে ডাক্তারেরা সাহস দিয়েছিলেন। তাঁদের চেষ্টায় অজয়কে কলকাতা মেডিকেল কলেজে শিশু বিভাগে ভর্তি করানো হয়।’

কলকাতা মেডিকেলে অজয়ের পাশে গুরুবারিকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, ছেলের কোনও উপসর্গ না থাকলেও, প্রতিটি দিন উৎকণ্ঠায় কেটেছে। তাঁর কথায়, ‘অজয়ের কয়েকটা বেড পরে রাতে করোনা-আক্রান্ত একটা বাচ্চার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ডাক্তার ও সিস্টারদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল। সে বাচ্চাটা খুব ছটফট করছিল। রাতে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হল।’

তিনি বলেন, ‘সকালে ঘুম ভাঙতে দেখি, বেডটা ফাঁকা। বাচ্চাটার কী হল সিস্টারদের কাছে জানতে চাইলাম। জবাব পাইনি। গায়ে কাঁটা দিয়েছিল। পরের ক’টা দিন যে কী ভাবে কেটেছে, বলতে পারব না।’

তিন সন্তানের দেখাশোনার জন্য বাড়িতে ছিলেন শত্রুঘ্ন। তিনি বলেন, ‘অজয়ের করোনা হয়েছে শুনে এক রকম হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে গ্রামের ভিলেজ পুলিশ উত্তম মাহাতো মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে ফোনে গুরুবারির সঙ্গে কথা বলাতেন। তখন ফোনে স্ত্রীকে ভরসা দিতাম।’

গত ১৫ জুন ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন গুরুবারি। সেই করোনা-জয়ীকে দেখতে গিয়েছিলেন বরাবাজার থানার আইসি সৌগত ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ওই শিশু ফিরে আসার পরে গ্রামের কয়েক জন মৃদু আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আতঙ্কের কিছু নেই। দু’সপ্তাহ পরিবারের লোকেরা বাড়ির বাইরে যাবেন না।’

পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য তথা হেরবনা গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ মাহাতো বলেন, ‘ওই বাচ্চাটা ও তার পরিবারের মনের জোরের কদর করতেই হয়। একের পরে এক ঝড় সামলাচ্ছে ওরা। পঞ্চায়েত ওই পরিবারের পাশে রয়েছে।’ বিডিও (বরাবাজার) সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওই পরিবারটিকে কীভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব, দেখছি।’ খবর: আনন্দবাজার।

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
রান্নাঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় সাপের কামড়ে তরুণীর মৃত্যু
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কেয়ার বাংলাদেশে চাকরি, আবেদন ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইবির ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, উপস্থিতি ৯২ শতাংশ
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করেছে হাম, আমরা অ্যারেস্ট করতে সক্ষম …
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
মেহেরপুরে জিয়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬