গ্রেপ্তার জুয়েল ইসলাম © সংগৃহীত
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হামলার শিকার নাফিস মোর্শেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী । শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাঁশেরহাট-সংলগ্ন বিসিএস গলি এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি।
হামলার ঘটনার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে মো. সজিব (২৬), জুয়েল ইসলাম (৩৫), বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী রুপাই হাসদার ছোট ছেলে ও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা) ও ৩২৪ ধারায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদ চৌধুরী তার দুই নারী সহপাঠীকে নিয়ে বাঁশেরহাট বাজার-সংলগ্ন বিসিএস গলিতে হাঁটছিলেন। এ সময় স্থানীয় অভিযুক্ত মো. সজিব ও মো. জুয়েল ইসলামের নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে এবং অশালীন মন্তব্য শুরু করে। বখাটেদের গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জুয়েল ইসলামের নির্দেশে অভিযুক্ত সজিব ধারালো ‘বাঁশের ফালা’ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নাফিসের কপালে প্রচণ্ড আঘাত করেন। এতে তার কপাল গভীরভাবে কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ‘কপালে ৮টি সেলাই দেয়া হয়েছে, মাথার খুলি ফেটে গেছে। রোগী আপাতত কিছুটা আশংকামুক্ত। তবে আমরা রোগীকে আমাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছি। মামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, ‘শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার পরপরই ২ নম্বর আসামি অভিযুক্ত জুয়েল ইসলামকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের ধরার জন্য আমাদের অভিযান চলমান।’