© ফাইল ফটো
করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে আট সপ্তাহ লকডাউনে ছিল ফ্রান্স। খাবার, ওষুধের মতো জরুরি প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সব বন্ধ ছিল। এসব বিধিনিষেধ শিথিল করে লকডাউন থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে দেশটি। ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে দোকান, কারখানা ও বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর আগে গত শুক্রবার (০৮ মে) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জিন মিচেল ব্লানকুয়ের আজ সোমবার থেকে ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পঞ্চম সর্বাধিক মৃত্যুর এ দেশটি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধাপে ধাপে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে এবং স্কুল খুলতে শুরু করেছে। দেশটির ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এখন সরকারের অনুমতি ছাড়াই বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন।
আজ সোমবার সকালে প্যারিসে যানবাহনের চলাচল বাড়ে। দোকান খোলার আগে কর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে। রয়টার্স জানায়, সোমবার (১১ মে) কিছু অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করেছে ফ্রান্স।
রাজধানীর মেট্রোলাইনে ভিড় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। যাত্রীদের মাস্ক পরে থাকতে হয়েছে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চিহ্ন এঁকে দেওয়া নির্দিষ্ট আসনে বসতে হয়েছে।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল মাসে সংক্রমণ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে (ইউসিইউ) থাকা রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
সংক্রমণ কম এমন অঞ্চলগুলোতে এ সপ্তাহে খুলেছে কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইমারি স্কুল। চলতি মাসেই জুনিয়র হাইস্কুলও খুলবে। শ্রেণিকক্ষে ১৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে না এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরে থাকতে হবে।
অন্যদিকে প্যারিসসহ বেশকিছু অঞ্চল এখনো ‘রেডজোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। দেশজুড়ে যাদের পক্ষে সম্ভব, তাদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে বলা হয়েছে।