চার বিসিএস
পিএসসি © সংগৃহীত
বিসিএস। বাংলাদেশের সবচেয়ে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় চাকরি। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডেকেল শিক্ষার্থীদের বেশি বিসিএস হয়, কোন বয়সের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বা কেমন? প্রতিবেদনে পিএসসি পরিসংখ্যান এমন এক তথ্য দিয়েছে; যাতে আলাদা করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ছে না। তথ্য বলছে, ২৪ থেকে ২৬ বছর বয়সী প্রার্থীদের দাপট যেখানে সবচেয়ে বেশি, সেখানে ৩০ পেরোনোদের উপস্থিতি একেবারেই ক্ষীণ। যদিও বছরের পর বছর ধরে চাকরির বয়স ৩০ থেকে ৩২ এবং বর্তমানে ৩৫ দাবিতে আন্দোলন করে চলেছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চার বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৭ হাজার ৬৫১ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব প্রার্থী মাত্র ৫.০২ শতাংশ। বিপরীতে, সবচেয়ে বেশি ক্যাডার হয়েছেন ২৪–২৬ বছর বয়সীরা; যা স্পষ্ট করে দেয়, বিসিএসের প্রতিযোগিতায় বয়স যেন এক নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।
চার বিসিএসের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিসিএসে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন ২৪–২৬ বছর বয়সী প্রার্থীরা। এই বয়সসীমায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৮৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ২৭–২৯ বছর বয়সী প্রার্থীরা, যাদের সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০ জন। এছাড়া ২১–২৩ বছর বয়সী প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৫২৩ জন।
বিসিএস ভিত্তিক চিত্র
৪৪তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭৬ জন। এদের মধ্যে ২৪-২৬ বছর বয়সী প্রার্থী ১ হাজার ১৫ জন (পুরুষ ৮০৬ জন, নারী ২০৯ জন)। ৩০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ছিলেন মাত্র ৮ জন (পুরুষ ৬ জন, নারী ২জন)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রার্থীরা; ৪৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৪২ জন আর নারী ৯৫জন। এছাড়া ২১ থেকে ২৩ বছর বয়সী প্রার্থী ২১৬ জন (পুরুষ ১৮৪, নারী ৩২ জন)।
৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হন ১ হাজার ৮০৭ জন। এখানেও ২৪ থেকে ২৬ বছর বয়সীরাই শীর্ষে; ১ হাজার ১৯০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৯২৬ জন আর নারী ২৬৪ জন। এখানেও ৩০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মাত্র ৯ জন (পুরুষ ৭, নারী ২ জন । দ্বিতীয় অবস্থানে ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৩৮২ জন (পুরুষ ৩০৬, নারী ৭৬ জন)। আর ২১ থেকে ২৩ বছর বয়সী প্রার্থী ২২৬ জন (পুরুষ ১৮৮, নারী ৩৮ জন)।
তবে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে (স্বাস্থ্য) মোট সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ জন। এই বিসিএসে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। এখানে ২৭–২৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন; ১ হাজার ৮০৭ জন। যদিও ২৪–২৬ বছর বয়সীরাও বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন।
এই বিসিএসে ২১ থেকে ২৩ বছর বয়সী প্রার্থীরা সবচেয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন; ৪৮ জন (পুরুষ ২৫, নারী ২৩ জন)। এছাড়া ৩০-৩২ বছর বয়সী প্রার্থীরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৩১১ জন (পুরুষ ১৭৬, নারী ১৩৫ জন)।
৪৯তম স্পেশাল বিসিএসে (শিক্ষা) চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ২৪ থেকে ২৬ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ৩৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৮৫ জন, নারী ৬০ জন। এই বিসিএসেও সবচেয়ে কম সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ২১ থেকে ২৩ বছর বয়সী প্রার্থীরা। এই বয়সসীমায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন আর নারী ৫ জন। এছাড়া, ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী প্রার্থীরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ৫৬ জন (পুরুষ ৫০, নারী ৬ জন)।