১১ বিসিএস বিশ্লেষণ
প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। সবশেষ প্রকাশিত ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.৩ শতাংশ, ছাত্রদের ক্ষেত্রে এটি ৬৫.৮৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে—মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী এবং ৬৫ হাজার ৪১৬ জন ছাত্র। এবার ছাত্রদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসএসসসিতে টানা ৮ বছরের ফলাফলে তারা ছেলেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
একইভাবে ২০২৫ সালের এইচএসসি ফলাফলেও মেয়েদের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৬২.৯৭ শতাংশ, বিপরীতে ছাত্রদের পাসের হার ৫৪.৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৪৪ জন ছাত্রী এবং ৩২ হাজার ৫৩ জন ছাত্র রয়েছে। অর্থাৎ এখানে ৪ হাজার ৯৯১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। টানা ১৫ বছর ধরে এইচএসসিতেও মেয়েরা সাফল্যের এই ধারা ধরে রেখেছে।
উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও নারীদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী— দেশের ১৬৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার। এর মধ্যে ছাত্র ২৫ লাখ ৪২ হাজার ও ছাত্রী ২২ লাখ ১৪ হাজার। সেই হিসাবে মোট শিক্ষার্থীর ৪৮ শতাংশ ছাত্রী এবং ৫২ শতাংশ ছাত্র।
প্রশ্ন উঠেছে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত এমন চোখ ধাঁধানো সাফল্য কর্মজীবনেও কি নারীরা ধরে রাখতে পারছেন? পরিসংখ্যান বলে পারেন না। ৩৭তম থেকে ৪৯তম বিসিএস (৪৬তম ও ৪৭তম বিসিএসের কার্যক্রম চলমান থাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি) পর্যন্ত ১১টি বিসিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। এই ১১ বিসিএসে পুরুষের সাফল্যের হার ৬৫.২%, সেখানে নারীর সাফল্য ৩৪.৮%। অর্থাৎ পুরুষের সাফল্য নারীর দ্বিগুণ।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সবশেষ প্রকাশিত দুটি বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ১১টি বিসিএসে মোট সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৬০২ জন, যার মধ্যে নারী ৯ হাজার ৯৪৪ জন। বাকি ১৮ হাজার ৬৫৮ জনই পুরুষ। এর মধ্যে চিকিৎসায় তিনটি বিশেষ বিসিএসে (৩৯তম, ৪২তম, ৪৮তম) নারীদের অবস্থান মোটামুটি সন্তোষজনক (৬৫৯৪)। তবে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে (শিক্ষা) নারীরা পিছিয়ে রয়েছে।
এই চারটি বিশেষ বিসিএস বাদে ৭টি সাধারণ বিসিএসে ক্যাডার পদে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে নারী মাত্র ৩ হাজার ২৩৮জন, যেখানে পুরুষ ১০ হাজার ৪০৪জন।
বিসিএস ভিত্তিক চিত্র
৩৭তম বিসিএসে ১,৩১৩ জনের মধ্যে ৯৯০ জন পুরুষ ও ৩২৩ জন নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ৩৮তম বিসিএসে ২,২০৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৬১১ ও নারী ৫৯৩ জন। ৩৯তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য)-এ সর্বোচ্চ ৬,৭৯২ জনের মধ্যে পুরুষ ৩,৬০০ ও নারী ৩,১৯২ জন। ৪০তম বিসিএসে ১,৯৬৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৪৫২ ও নারী ৫১১ জন।
৪১তম বিসিএসে ২,৫১৬ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৮৪৪ ও নারী ৬৭২ জন। ৪২তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য)-এ ৪,০০০ জনের মধ্যে পুরুষ ২,০৩৯ ও নারী ১,৯৬১ জন। ৪৩তম বিসিএসে ২,১৬৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৭৪২ ও নারী ৪২১ জন। ৪৪তম বিসিএসে ১,৬৭৬ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৩৩৮ ও নারী ৩৩৮ জন। ৪৫তম বিসিএসে ১,৮০৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১,৪২৭ ও নারী ৩৮০ জন। ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য)-এ ৩,৫০০ জনের মধ্যে পুরুষ ২,০৫৯ ও নারী ১,৪৪১ জন।
সবশেষ ৪৯তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা)-এ ৬৫৮ জনের মধ্যে ৫৫৬ জন পুরুষ ও ১১১ জন নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।