পিএসসি © সংগৃহীত
বিসিএস পরীক্ষার লিখিত অংশের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৪৬তম বিসিএস থেকে প্রচলিত পদ্ধতির বিপরীতে কমিশন সার্কুলার পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।
সদ্য প্রকাশিত পিএসসির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়।
সার্কুলার পদ্ধতিতে পরীক্ষক কমিশন ভবনে এসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন। এ পদ্ধতিতে একটি উত্তরপত্র নির্দিষ্ট নিয়মে একাধিক পরীক্ষকের কাছে ঘুরে ঘুরে মূল্যায়িত হয়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র কোডিং করা থাকে, ফলে পরীক্ষকের সামনে পরীক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ পায় না। একজন পরীক্ষক পুরো উত্তরপত্র না দেখে নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা অংশ মূল্যায়ন করেন, পরে সমষ্টিকারকের মাধ্যমে নম্বর সমন্বয় করা হয়।
উদারহণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর এক মন্তব্য কলামে বলেন, প্রশ্নের প্রথম উত্তরটি যিনি মূল্যায়ন করেন, তিনি প্রতিটি খাতারই প্রথম উত্তর দেখেন। এরপর দ্বিতীয় উত্তর দেখার জন্য খাতাটি আরেকজন পরীক্ষকের কাছে দেওয়া হয়। এভাবে প্রবাহ বা সার্কুলেশন চলতে থাকে বলে এর নাম হয়েছে সার্কুলার পদ্ধতি। প্রক্রিয়াটিকে অবশ্যই ভালো বলা যেত, যদি সীমিতসংখ্যক খাতা দেখার জন্য এই উপায় অবলম্বন করা হতো।
পিএসসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্কুলার পদ্ধতিতে মূল্যায়নের ফলে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে সময় লেগেছে মাত্র ২ মাস। অথচ এর আগের ৪৫তম বিসিএসে একই কাজ শেষ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১ বছর ৩ মাস।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের নতুন এই পদ্ধতিতে শুধু সময়ই নয়, ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়। ৪৩তম বিসিএসে ১৫ হাজার ২২৯ জন পরীক্ষার্থীর খাতা প্রচলিত পদ্ধতিতে মূল্যায়নে খরচ হয়েছিল ৭ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে ৪৬তম বিসিএসে একই সংখ্যক খাতা সার্কুলার পদ্ধতিতে মূল্যায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এতে প্রায় ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
কমিশনের পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পিএসসি জানায়, এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে প্রার্থীদের ভোগান্তি কমেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে।
এর আগে তথা ৪৫ বিসিএস পর্যন্ত একটি খাতা দুজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করতেন। দুজন পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর গড় করে একজন প্রার্থীর চূড়ান্ত নম্বর নির্ধারণ করা হতো। তাদের দেওয়া নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে একই খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হতো। প্রতিবার একজন নিরীক্ষক পর্যবেক্ষণ করে দেখতেন, নম্বর প্রদানে পরীক্ষকের কোনো ভুলত্রুটি ঘটেছে কি না। ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে পিএসসিতে গিয়ে নিজ হাতে সংশোধন করে দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এই পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগার কারণে ৪৬ বিসিএস থেকে নতুন করে সার্কুলার পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি।