বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী

ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ‘ই-বেইল বন্ড’ মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ PM , আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ PM
বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইল বন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইল বন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী © সৌজন্যে প্রাপ্ত

ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ‘ই-বেইল বন্ড’ মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তির উন্নয়নই নয়। আমরা মানসিকতারও উন্নয়ন চাই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যে বিচার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা কর্মকর্তা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে না। যে বিচার ব্যবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনবদ্ধ পাদপীঠ। 

বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইল বন্ড সিস্টেমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এক্সেস টু জাস্টিস ফর অল। ন্যায়বিচার কোন দয়া বা করুণার বিষয় নয়। এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আজকের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বিশাল মাইলফলক।

তিনি বলেন, একজন বিচারক যেহেতু জামিন আদেশটি যাচাই করে সরাসরি অনলাইনেই কারা প্রশাসনের কাছে পাঠাবেন। সেহেতু কারা প্রশাসন জামিন আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারামুক্তি দিতে সক্ষম হবেন। ফলে ইবেল বন্ড বা ইলেকট্রনিক জামিননামা ব্যবস্থা ব্যবস্থা বিচার ব্যবস্থায় জনগণের অহেতুক হয়রানি এবং দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-বেইল বন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস আদালতের কেস ম্যাজিস্ট্রেট সিস্টেম এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভেরিফিকেশনের সাথে যুক্ত করার বিষয়টিও আমাদের সরকারের পরিকল্পনার ভিতরে রয়েছে। জনদুর্ভোগ লাগাবের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াটিকে বর্তমান সরকার কম্পিউটারাইজ সিস্টেমের আওতায় এনে বিচার বিভাগে মডারনাইজেশনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, গায়েবি মামলা, ভুয়া ওয়ারেন্ট এবং ওয়ারেন্ট রিকল না হওয়ার অজুহাতে অতীতে বিরোধীদল বা ভিন্ন চিহ্ন মতের হাজার মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট রিলিজ অর্ডার এবং থানা থেকে ওয়ারেন্ট রিকলের কাজ সম্পন্ন করবে ইনশাল্লাহ। এটি করা সম্ভব হলে এক জেলার অভিযুক্ত আসামি অন্য জেলায় গ্রেপ্তার হলে অনলাইনে দ্রুত উপনথি প্রেরণের মাধ্যমে জামিন শুনানি সহজ করা হবে। ফলে পুলিশি হয়রানি বা ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে রাখার যে অপসংস্কৃতি তা উৎপাটন সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে বিচার বিভাগকে দলীয় আদালতে পরিণত করা হয়েছিল। আইনের দোহাই দিয়ে শাসন চালালেও তখন দেশের ন্যায়বিচার ছিল না। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ অন্ধকারের শাসন থেকে মুক্ত করে নিজেকে মুক্তি পায়। সুতরাং বর্তমান সরকার এবার দেশের ন্যায় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধ পরিকর।

তিনি বলেন, আদালত হয়রানির জায়গা নয় বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থল। জনমনে এমন বিশ্বাস দৃঢ় হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স ও দূরীভূত হবে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি। এজন্য বর্তমান সরকার ন্যায় এবং আস্থার জায়গা হিসেবে বিচার বিভাগকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় জনগণের হয়রানি লাঘব করতে সরকার বিচার প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের অংশ হিসেবে বিচার ব্যবস্থার অধীনে ই-বেইল বন্ড পদ্ধতির বাস্তবায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং যার ফলশ্রুতিতে আজ সাতটি জেলায় এই প্রকারটি চালু হলো দেশের সকল আদালতে ই-বেইল বন পদ্ধতি চালু করা গেলে জনগণের বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য দূর করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ন্যায়বিচারে বিলম্ব করা মানেই ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা বা অস্বীকার করা। আমি আশা করি বিচার বিভাগ কারা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান আন্তরিক উদ্যোগ নিয়ে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আদালতের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে জামিননামা হাতে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারামুক্তি হতে দেরি হয়। এটি আইনের শাসন হলেও ন্যায়বিচার কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ হয়ত রয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে আমরা দেখেছি, আইনের দোহাই দিয়েই এমন রাতের বেলা আদালত বসিয়ে ভিন্ন দল এবং মতের শত শত মানুষকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেগুলো অবশ্যই ন্যায়বিচার ছিল না। বরং আইনি বিচারে আইনের অবিচার চালানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার বিষয় দুটি একটি আরেকটির পরিপূরক। আমার কাছে মনে হয় রাষ্ট্রে আইনের শাসনের শেষ কথা নয় বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজে আইন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায় পরায়ন বিচারক। আমি মনে করি জামিন প্রক্রিয়ায় ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা বিচারপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিচার প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ।

প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ে কারাগারে থাকাকালে নিরপরাধ ও গরীব কয়েদীদের কথা তুলে ধরে তাদের আইনি সহায়তা দিয়ে মুক্তির উদ্যোগে বিষয়টি তুলে ধরে আইন মন্ত্রীকে উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি নিজেও ১৮ মাস জেলে ছিলাম। আমার একটি অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে খুব সংক্ষেপে শেয়ার করতে চাই। আমি দেখেছি, জেলখানায় যতজন মানুষ বন্দি কয়েদি; যেভাবেই তাদেরকে আমরা ডাকি না কেন তার মধ্যে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ আছে গরীব মানুষ যারা বিভিন্ন কারণে জেলে গিয়েছে এই মানুষগুলো ঠিক জানেও না তারা কী কারণে জেল খাটছে এবং বহু মানুষ তারা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে একজন ভালো লয়ার নিযুক্ত করতে পারছে না বলে তার ফ্যামিলি সেটি এফোর্ট করতে পারছে না বলে এই মানুষগুলো বিনা কারণে জেল খাটছে।

তিনি বলেন, আমি আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এই বিষয়টিকে কীভাবে আমরা অ্যাড্রেস এই নিরপরাধ মানুষ এই মানুষগুলোর মধ্যে যদি কেউ নিরপরাধ থেকে থাকে এবং যারা একজন প্রপার লয়ার একজন ভালো লয়ার এফোর্ট করতে পারছে না, এই মানুষগুলোকে কীভাবে আমরা এই বন্দি দশা থেকে বের করে আনতে পারি এই বিষয়টি আমি ওনাকে বলব অনুগ্রহ করে দেখার জন্য। 

প্রধানমন্ত্রীর কম্পিউটারে বাটন টিপে ই-বেইল বন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে বগুড়াসহ ৭ জেলা এই ই-বেইল বন্ড চালু হলো। ৭ জেলা হচ্ছে, বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুড়া, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী ভুঁইয়া বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বগুড়ার সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী এই ভবন নির্মাণে ১৫ লক্ষ টাকা, আইনজীবী সমিতির গ্রন্থাগারে তিন লক্ষ টাকা এবং আইনজীবীদের মসজিদ নির্মাণে ৫ লক্ষ  টাকা অনুদান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছে ইরান
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
দাওয়াত না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান বন্ধ কর…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির মনোনয়নে এমপি হচ্ছেন জিল্লুর রহমানের স্ত্রী
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এমপি হচ্ছেন নগর বিএনপি নেত্রী নাদিয়া পাঠান, খুশি আওয়ামী লী…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
ঈদ পর্যন্ত উচ্ছেদ না করার আকুতি জবি টিএসসির ২৫ দোকানির
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সপ্তাহে একদিন হোম অফিস দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬