এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি অত্যাধুনিক এফ–৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগেই পাইলট সফলভাবে বিমান থেকে বেরিয়ে আসায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোর।
মার্কিন মেরিন কোর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) সান ডিয়েগোর মিরামার বিমানঘাঁটির কাছে এফ–৩৫বি যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং আঘাত গুরুতর নয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, খোলা মাঠে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সামরিক বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক যান মোতায়েন করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ধ্বংসাবশেষের চারপাশে বিশেষ রাসায়নিক ছিটানো হয়। পাশাপাশি ফায়ার হোস ব্যবহার করেও আগুন নেভানোর কাজ চালানো হয়।
সান ডিয়েগো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের মুখপাত্র ক্যান্ডেস হ্যাডলি বলেন, 'যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের ঝোপঝাড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা কাজ করেন।'
মিরামার বিমানঘাঁটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিখ্যাত যুদ্ধবিমান চালক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘টপ গান’–এর মূল প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবেও এটি পরিচিতি পেয়েছিল। সে সময় ঘাঁটিটির ডাকনাম ছিল ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’। পরে ১৯৯৬ সালে ঘাঁটিটি মেরিন কোরের কাছে হস্তান্তর করা হলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেভাদার নেভাল এয়ার স্টেশন ফ্যালনে স্থানান্তর করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) ২০২৪ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মেরিন কোর, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কাছে ৬৩০টির বেশি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এফ–৩৫ সিরিজের বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে এফ–৩৫বি একটি বিশেষ মডেল। এটি স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং খাড়াভাবে অবতরণ করতে সক্ষম। একটি এফ–৩৫বির দাম প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।
জিএওর হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও ১ হাজার ৮০০টির বেশি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান কেনা, কয়েক দশক ধরে সেগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ পুরো এফ–৩৫ কর্মসূচির ব্যয় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য বলছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত সাতটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে জুন মাসে। ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভি মরুভূমি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি বি–৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা আটজন নিহত হন।