জ্বালানি সংকটে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ PM
ইউরোপজুড়ে বেড়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি

ইউরোপজুড়ে বেড়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি © সংগৃহীত

 ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায়, ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা ও বিক্রি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। গত মার্চ মাসে ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘নিউ অটোমোটিভ’ এবং বাণিজ্যিক সংগঠন ‘ই-মবিলিটি ইউরোপ’-এর যৌথ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেবল মার্চ মাসেই ২ লাখ ২৪ হাজার নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকেল নিবন্ধিত হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখে, যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৩৩.৫ শতাংশ বেশি। খবর গার্ডিয়ানের

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো সব ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা সাধারণ ক্রেতাদের সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে। 

ই-মবিলিটি ইউরোপের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস হেরন বলেন, ‘মার্চ মাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির এই অভাবনীয় বিক্রি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক। তেলের ওপর অতি-নির্ভরতা যে একটি বড় ঝুঁকি, তা এই সংকটকালে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।’ বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়িতে এই রূপান্তরের ফলে বছরে তেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাবে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের দৌড়ে নর্ডিক দেশগুলো, বিশেষ করে নরওয়ে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে। দেশটিতে মার্চ মাসে বিক্রি হওয়া মোট নতুন গাড়ির ৯৮ শতাংশই ছিল বৈদ্যুতিক। ডেনমার্কে এই হার ৭৬ শতাংশ এবং ফিনল্যান্ডে প্রায় ৫০ শতাংশ। মূলত উচ্চ মজুরি, সরকারের দেওয়া উদার ভর্তুকি এবং দেশজুড়ে বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্কের কারণে এসব দেশে পেট্রোল গাড়ির যুগ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। গত সপ্তাহে সুইডিশ কোম্পানি পোলস্টার জানিয়েছে, তারা গত এক বছরে রেকর্ড ৬০,০০০ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করেছে।

তবে পিছিয়ে নেই জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোও। ইউরোপের এই পাঁচটি বড় বাজারে বছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যেখানে ইতালিতে মার্চ মাসে বিক্রি বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। যদিও সামগ্রিকভাবে ইতালির বাজারে এখনও মাত্র ৮.৬ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা ফ্রান্সের ২৮ শতাংশের তুলনায় বেশ কম। জার্মানিতেও মার্চ মাসে বিক্রি ৪২ শতাংশ বেড়েছে। জার্মান অটোমোটিভ ট্রেড বডির মতে, বর্তমানে ইউরোপে বিক্রি হওয়া প্রতি দুটি বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি জার্মানিতে তৈরি হচ্ছে, যা দেশটির শিল্পের সক্ষমতা প্রমাণ করে।

ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্স সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ি জনপ্রিয় করতে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটিতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ৫,৭০০ ইউরো (প্রায় ৪,৯৬৩ পাউন্ড) পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যম আয়ের ক্রেতারা পাচ্ছেন ৪,৭০০ ইউরো পর্যন্ত। এছাড়া ফ্রান্স একটি ‘সোশ্যাল লিজিং’ স্কিম চালু করেছে, যার মাধ্যমে যাদের আয় বছরে ১৬,৩০০ ইউরোর কম এবং যাদের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য দিনে অন্তত ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, তারা নামমাত্র খরচে বৈদ্যুতিক গাড়ি লিজ নিতে পারছেন। এই উদ্যোগটি দেশটিতে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় পেট্রোল নির্ভরতা কমাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ১৪৪ ধারার ‘মাইকিং’, ছাত্রদল নেতাক…
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ৫০০ শয্যার, ১৫ তলা ভবন নির্মাণ…
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
নবীনদের স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাবির ফজলুল হক হলের ভিপি, সমাজসেবা সম্পাদক ও ভুক্তভোগী শিক্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্ত…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬