বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে অন্তত ৭০টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে মানুষের উপর ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য মাত্র পাঁচটি পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। তার ব্রিটেনের একটি। দেশটিতে ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের তৈরি প্রতিষেধ এবার মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দুজনের শরীরে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোট ৮০০ জন মানুষ এই পরীক্ষামূলক কাজে স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন। এই ৮০০ জনের মধ্যে অর্ধেককে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। আর বাকি অর্ধেককে করোনা ভাইরাসের নয়, ম্যানিনজাইটিস প্রতিরোধক দেওয়া হবে। তবে স্বেচ্ছোয় অংশ নেওয়া এই কর্মীরা কেউই জানবে না কোন ভ্যাকসিন তাদের শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে, জানবে শুধু ডাক্তাররা। যেখানে দুই গ্রুপের মানুষের মধ্যে আগামী কয়েকমাসে তুলনামূলক বিচার করে ভ্যাকসিনের কাজ হচ্ছে কিনা তা নির্ধারণ করবেন গবেষকরা।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট এই পরীক্ষা পর্বের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ভ্যাকসিনটি মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি দল প্রস্তুত করেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই ভ্যাকসিনটির সফলতার ব্যাপারে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, এখন অবশ্যই আমরা এটি পরীক্ষা করব। মানব শরীরের কীভাবে কাজ করে সেই তথ্য আমরা সংগ্রহ করব। সবার জন্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে আগে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিছু রোগীর শরীরের এটি প্রয়োগ করবো এবং জানবো এটি কতটুকু কার্যকর।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়া নভেল করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়েছে। এ ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন বা ওষুধ এখনও তৈরি করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বজুড়ে ৭০টি ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে খুব কমই মানব শরীরের প্রয়োগ করে পরীক্ষার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।