ভাষার জন্য লড়াই করেও হেরে যাবেন সনু রানী?

২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪১ AM

মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের সনু রানী দাস। পিছিয়ে পড়া ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত নিজের সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠলো না।

টানবাজার সুইপার কলোনির প্রথম গ্র্যাজুয়েটধারী সনু রানী পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও  স্কুল থেকে কলেজ ও কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পৌঁছেছিলেন। হাজার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করেছেন বিভিন্ন এনজিওতে। হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশ-বিদেশে।

তবে এই নারীর প্রতিভা শুধু কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে টিউশন দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এখনো। সেই সঙ্গে অন্ধকারাচ্ছন্ন হরিজন সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ পড়ে রয়েছে অন্ধকারেই। 

ব্যাপক আলোচনায় ও সবার মধ্যমণি হয়ে থাকা সনু রানী ধীরে ধীরে আড়ালে চলে আসেন। তবে  শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন তার সঙ্গ ছাড়ে না। স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৭ জনের মধ্যে একজন হিসেবে পরীক্ষা দেন তিনি।

তবে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৫৫ হাজার ২৯৫ জনের মধ্যে তার নাম আসেনি। ফলে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন, রাতের অন্ধকারে দেখা হাজার স্বপ্নের মতো মিলিয়ে যায়।

তিনি প্রথমে স্কটল্যান্ডে গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেন। বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ঐ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সনু সেখানে ছিলেন তিন মাস। এরপর তিনি জেনেভায় যান হিউম্যান রাইটসের এক সম্মেলনে অংশ নিতে।

সেখানে ৭ মিনিটের এক ভাষণে তুলে ধরেন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ে নারীদের অবস্থান। যা সেই সম্মেলনে সকলের প্রসংশা কুড়ায়। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে তার সাফল্যের কাহিনী। সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন একজন আদর্শ নারী হিসেবে। যার থেকে অনুপ্রাণীত হন হরিজন সম্প্রদায়ের অনেকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সনু রানী বলেন, ‘বর্তমানে সম্পূর্ণ বেকার। এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কি লাভ হলো। আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েই বা কি করবো।’

তিনি বলেন, ‘বস্তির কাউকে তাদের সন্তানের শিক্ষা সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারি না। এক সময় আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া মানুষগুলো এখন আমার উদাহরণ দিয়েই নিজেদের সন্তানদের শিক্ষা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়। আমি মাথা নিচু করে শুনেই যাই।’

সনু রানী বলেন, ‘আমি শিক্ষক হতে পারেনি তার আক্ষেপ তো থাকবেই তবে তার থেকে বেশি হতাশাজন হচ্ছে আমার এই সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ। আগামী এক যুগেও এই সম্প্রদায়ের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই সম্প্রদায়ের মানুষগুলো যেমন পিছিয়ে ছিল তেমনি থাকবে!’

হৃদরোগে নিভে গেল ঢামেক ছাত্র রোকনের জীবনপ্রদীপ
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
'ফিলিপনগরের হামলা প্রমাণ করে বিএনপি ইন্টেরিম ২.০ হিসেবে দেশ…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
চাপের মুখে হতাশ না হতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের …
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ভাল ডাক্তার তৈরিতে বেসরকারি মেডিকেল সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন ক…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
মব-সহিংসতার মাধ্যমে মাজার ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনায় এনসিপি'র নি…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কম্বলে মোড়ানো মাথাবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close