ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম বিজ্ঞানী ওমর ইয়াঘির হাতে রসায়নের নোবেল

০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৪ PM
ড. ওমর এম ইয়াঘি

ড. ওমর এম ইয়াঘি © ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান রসায়নবিদ ড. ওমর এম ইয়াঘি রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি দ্বিতীয় মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে রসায়নে নোবেল জয় করলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শুষ্ক অঞ্চল থেকে পানীয় জল সংগ্রহের প্রযুক্তিতে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। 

রসায়নে প্রথম মুসলিম নোবেল বিজয়ী হলেন মিসরীয়-আমেরিকান রসায়নবিদ ড. আহমেদ জেওয়াইল। তিনি ১৯৯৯ সালে তাঁর কাজের জন্য পুরস্কৃত হন। ড. ইয়াঘি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে-তে রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর প্রধান গবেষণা ক্ষেত্র হলো ‘রেটিকুলার কেমিস্ট্রি’ নামে রসায়নের একটি নতুন শাখা, যার পথিকৃৎ তিনি। তিনি এই ক্ষেত্রটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: ‘শক্তিশালী বন্ধনের মাধ্যমে আণবিক বিল্ডিং ব্লকগুলোকে বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে জুড়ে দেওয়া’। তিনি তিন ধরনের যুগান্তকারী পদার্থের আবিষ্কার ও নকশা প্রণয়নের জন্য সুপরিচিত। এগুলো হলো: মেটাল-অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস (এমওএফ), কোভ্যালেন্ট অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস (সিওএফ) এবং জিউলিটিক ইমিডাজোলেট ফ্রেমওয়ার্কস (জেডআইএফ)। 

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের ঘোষণা অনুযায়ী, জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্যের রিচার্ড রবসনের সঙ্গে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল জিতেছেন মুসলিম অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী ড. ওমর এম ইয়াঘি। ‘ধাতব-জৈব কাঠামো’ বা ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে নতুন একধরনের আণবিক কাঠামো আবিষ্কারের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। 

ড. ওমর ইয়াঘি ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যুৎ এবং সুপেয় পানির সীমিত সুবিধা নিয়ে একটি মাত্র ঘরে গাদাগাদি করে থেকে কেটেছে তাঁর শৈশব। বাবার অনুপ্রেরণায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইংরেজি ভাষা ভালোভাবে না জানা সত্ত্বেও তিনি হাডসন ভ্যালি কমিউনিটি কলেজ থেকে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অ্যাট আলবানি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। 

ড. ওমর এম ইয়াঘি ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়, আরবানা-শ্যাম্পেইন থেকে রসায়নে পিএইচডি (১৯৯০) অর্জন করেন, যেখানে তাঁর উপদেষ্টা ছিলেন ড. ওয়াল্টার জি. ক্লেমপারার। পরবর্তীতে তিনি রিচার্ড এইচ. হোম-এর অধীনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা সম্পন্ন করেন। 

নোবেল ছাড়াও ড. ওমর ইয়াঘি তাঁর বৈজ্ঞানিক অর্জনের জন্য বিশ্বজুড়ে বহু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে উলফ প্রাইজ ইন কেমিস্ট্রি (২০১৮), কিং ফয়সাল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন সায়েন্স (২০১৫), সলভয় প্রাইজ (২০২৪), তাং প্রাইজ (২০২৪) এবং বলজান প্রাইজ (২০২৪)। 

নোবেল জেতার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ওমর বলেন, আমার বাবা-মা খুব একটা পড়তে বা লিখতে পারতেন না। এটা কঠিন একটা যাত্রা ছিল, বিজ্ঞানই এটা করে দেখানোর সুযোগ দিয়েছে।

ওমর ইয়াঘির জীবন এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যেখানে শরণার্থী জীবনের দুঃখ-কষ্ট, আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন একসঙ্গে মিশে গড়ে তুলেছে বিজ্ঞানের নতুন ইতিহাস। তাঁর নোবেল বিজয় কেবল একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি প্রতীক সেই অদম্য মানসিকতার, যা প্রতিকূলতার অন্ধকার ভেদ করে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে তুলতে পারে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর।

৫০ হাজার টাকার ঋণ সুদে-আসলে দাঁড়াল ৩ লাখ, মামলা থেকে বাঁচতে…
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কুবির ৩ রোভার
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি নাকচ, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বলল আইস…
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই হামলায় বহিষ্কৃতসহ ৫ বহিষ্কৃত কর্মকর্তা বৈধ ভোটার
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপ…
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২৬