‘আমি ফেঁসে গেছি, তুমি কিন্তু ফেঁসে যেও না’— তিশার শেষ বার্তা

১৮ মে ২০২৬, ০৯:৫০ PM , আপডেট: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৫১ PM
তিশা শর্মা

তিশা শর্মা © সংগৃহীত

‘আমি ফেঁসে গেছি, কিন্তু তুমি ফেঁসে যেও না’— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পাঠানো একটি ছোট্ট বার্তা। কিন্তু এই বার্তার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক তরুণীর চরম ভয়, অস্থিরতা, দমবন্ধ অনুভূতি আর অজানা মানসিক চাপের ইঙ্গিত। ৩৩ বছর বয়সি তিশা শর্মার মৃত্যুর পর এখন এই বার্তাগুলোই ঘুরেফিরে আসছে পুলিশি তদন্তে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহের তির আরও ঘনীভূত করছে।

গত ১২ মে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে তিশা শর্মার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যা মনে হলেও, তিশার মায়ের ফোনে থাকা হোয়াটস্যাপ চ্যাট এবং শরীরের আঘাতের চিহ্ন প্রকাশ্যে আসার পর এটি এখন বহুমাত্রিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রূপ নিয়েছে। 

ভারতের নয়ডার বাসিন্দা এমবিএ ডিগ্রিধারী তিশা দিল্লিতে মার্কেটিংয়ের চাকরির পাশাপাশি সুন্দরী প্রতিযোগিতা ও চলচ্চিত্রের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপে ভোপালের সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর তিশা ভোপালে চলে এলেও তাঁর নতুন জীবনের বাস্তবতা ছিল ভয়াবহ। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তিশা তাঁর বন্ধুদের গ্রুপে লেখেন, ‘আমি এখন অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। বিয়ে মানেই নিজের পরিচয় শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’ পাশাপাশি তিনি বন্ধুদের সতর্ক করে বলেন, ‘বিয়ের সময় তাড়াহুড়ো করো না, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিও।’ তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য মিলেছে তিশার মায়ের ফোনে পাঠানো খুদেবার্তায়। সেখানে তিশা লিখেছিলেন, ‘মা, আমার খুব দম বন্ধ লাগছে। তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, কালই প্লিজ।’

তদন্তে আরও জানা যায়, তিশা অন্তঃসত্ত্বা হলে তাঁর স্বামী সমর্থ সিং সন্তানটি নিজের নয় বলে দাবি করেন এবং তিশাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। গত ৯ মে মাকে পাঠানো শেষ বার্তায় তিশা আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, ‘সে আমাকে জিজ্ঞেস করছে এটা কার সন্তান ছিল! যে স্বামী এমন অভিযোগ করতে পারে, আমি কীভাবে তার সঙ্গে থাকব? মা, আমি এখানে পাগল হয়ে যাব। আমি আর পারছি না!’

প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তিশার মৃত্যু ঝুলন্ত অবস্থায় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও, তার শরীরে মৃত্যুর আগের বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিশার পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ— এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তিশাকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা তদন্তে ভোপাল পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, সকল ধরনের তথ্য-প্রমাণ ও চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
 

ফের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নোটিশ বিএমইউর ডক্টরস হল ভবনে
  • ২৮ জুন ২০২৬
নগদ লিমিটেডে চাকরি, আবেদন ৭ জুলাই পর্যন্ত
  • ২৮ জুন ২০২৬
নির্মাণের ২ বছর পরও তালাবদ্ধ খুবির কোটি টাকার ‘গল্লামারী বধ…
  • ২৮ জুন ২০২৬
শিক্ষক ও সাংবাদিকের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
  • ২৮ জুন ২০২৬
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়, সংকটই বড় বাধা— ফ্রিল্যান্সিং দক্ষত…
  • ২৮ জুন ২০২৬
রূপগঞ্জে গ্রিন ইউনিভার্সিটির বাসে হামলা, শিক্ষার্থী-স্টাফ আ…
  • ২৮ জুন ২০২৬