ফুডপান্ডার ডেলিভারীর ম্যানের প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় পাওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ফুডপান্ডার এক ডেলিভারি রাইডারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজধানীর বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই শিক্ষার্থী। শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে তিনি জিডি করেন। অভিযুক্ত রাইডারের নাম কাওসার হোসেন। তার বয়স ২৪ বছর।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থানায় একটি জিডি করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই আবু ইউসুফ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সাইবার ক্রাইমে পাঠিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করবে। আমার সঙ্গে ওই ছেলের কথা হয়েছে। ছেলেটি নিজের দোষ স্বীকার করে প্রাথমিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১০ তারিখে বাদী ও বিবাদী আলাপ করবেন। তারা সমঝোতায় গেলে বিষয়টি মীমাংসা হবে। আর তারা চাইলে মামলাও করতে পারেন।’
আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপি জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্ণেল অলি আহমদ
ওই শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ৩ আগস্ট রাত ১০টার দিকে তিনি ফুডপান্ডায় খাবারের অর্ডার করেন। সেদিন রাতেই অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করা হয়। একই নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপেও আপত্তিকর বার্তা পাঠানো হয়। শুরুতে ফোন করা ব্যক্তি কে, তা বুঝতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী। পরে ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনিই তার খাবার পৌঁছে দেওয়া রাইডার।
শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করি। এ কারণে বাড্ডা থানায় জিডি করেছি।’
জিডিতে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিচয় না দিয়ে তাকে বারবার ফোন করেন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান আপত্তিকর বিভিন্ন বার্তা। শিক্ষার্থী ওই নম্বরে কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল না ধরে কেটে দিতেন।
পরে গত ৫ আগস্ট নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ওই শিক্ষার্থী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ওই রাইডার জানতেন, আমি বাসায় একা ছিলাম।’
অন্য নারীদের সতর্ক করতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো আপত্তিকর বার্তার স্ক্রিনশটও ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ করেন তিনি।
এর পরদিন ৬ আগস্ট আরেকটি ফেসবুক পোস্ট দেন ওই শিক্ষার্থী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ধর্ষণের হুমকি পেতে শুরু করেন।