হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান ২২ আরব রাষ্ট্রের © সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধ বন্ধে হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ এবং শাসন ক্ষমতা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে ২২টি আরব দেশ। তারা বলছে, এই পদক্ষেপ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেবে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ কার্যালয়ে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। অনেকে এ ঘোষণাকে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে হামাসকে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় গাজার শাসন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। এতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে। এতে হামাসের ৭ অক্টোবরের ইসরায়েল হামলা এবং পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়।
ঘোষণায় আরব দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য এবং আরও ১৭টি রাষ্ট্রও স্বাক্ষর করেছে। এতে গাজায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশন পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা পরিচালিত হবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে।
তবে এই ঘোষণার বিষয়ে সরাসরি অস্ত্র ফেলা কিংবা শাসন ছাড়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, বিবৃতি দিয়ে কড়া জবাব দিয়েছে হামাস। সংগঠনটি জানায়, “ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।”
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি সংগঠনটি জানায়, ‘দখলদারিত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।’
এই সম্মেলনের মধ্যেই গাজার মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র উঠে আসে। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকদের অনাহারে মৃত্যুর খবর বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েল যুদ্ধের মাঝেও পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্মেলনে ১২৫টি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র অংশ নেয় এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে কথা বলে। ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।