ব্যাগে ‘কন্ডোম’ রাখার অপরাধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে বহিষ্কার করেছিলো স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে অভিভাবকের আপত্তিতে উল্টো এবার বিপাকে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষই। ওই ছাত্রকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিভাবক। ফলে তা আরও জটিল পর্যায়ে চলে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।
সল্টলেকের সুকান্তনগর বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মণ্ডল ঘটনা স্বীকার করে বলেছেন, ‘ওই ছাত্রকে স্কুলে আসতে দিলে অন্যরা খারাপ হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে পড়ুয়াকে অবশ্য বহিষ্কারের কোন নির্দেশিকা নেই। তবে খুবই অবাধ্য ওই ছাত্র। বাড়ি থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়েও পাশ করতে পারেনি।’
কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘যেখানে প্রাথমিক স্তর থেকে স্কুলে যৌন শিক্ষার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের কাছে কন্ডোম মেলায় তাকে স্কুল থেকে বার করে দেওয়া যায় না।’ ওই ছাত্রের অভিভাবক চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্কুলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, গত বছর গরমের ছুটির আগে ক্লাস চলাকালীন তাঁর ছেলের কাছে কন্ডোম পাওয়া গিয়েছিল। এ কথা তাঁকে স্কুলে ডেকে জানিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। এজন্য তাকে অন্যত্র ভর্তি করতে প্রয়োজনে টাকা দেবে স্কুল।
অবশ্য ওই ছাত্রের দাবি, ‘অন্য সহপাঠী তাকে রাখতে দিয়েছে। কিন্তু সে কথা কেউ শোনেননি। অনেক অনুনয়ের পরে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছিলেন, বাড়িতে পড়াশোনা করে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসতে পারবে ছেলে। সেই মতো পরীক্ষা দেয়। কিন্তু পাশ করতে পারেনি।
গত জানুয়ারিতে ফের নবম শ্রেণিতেই ভর্তি হয় ওই ছাত্র। মায়ের অভিযোগ, প্রায় দিনই ফিরে আসত ছেলে। কারণ, শিক্ষক ওকে ক্লাসে ঢুকতে দিতেন না। যদিও এ জন্য ওই ছাত্রকে বহিষ্কার না করে কাউন্সেলিং করার দরকার ছিল বলে মনে করছেন একাধিক মনোবিদ। মনোরোগ চিকিৎসক জয়রঞ্জন রাম বলেন, ‘ওই ছাত্রকে সহানুভূতির সঙ্গে বোঝালে ওর ভাল হত।’